কাজী নূর
পবিত্র রমজানে ইফতার বা সেহরিতে অনেকের ফল না হলে চলে না। চিকিৎসকরাও বলেন রমজানে শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে ফলের বিকল্প নেই। তাই স্বল্প আয়ের মানুষেরাও এ সময় একটু ফল রাখতে চেষ্টা করেন ইফতারিতে। আর সেই ফল যদি হয় আমদানি নির্ভর তবে তো কথাই নেই। বাড়তি দামে বিদেশি ফল কিনে অতিরিক্ত পয়সা গুণতে হচ্ছে ক্রেতাকে। গত দুই দিনের ব্যবধানে নাশপাতির দাম কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ টাকা।

দুদিন আগে যে নাশপাতি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বর্তমানে তার দাম ৪৪০ টাকা কেজি। তবে খুচরা বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির এই অজুহাত মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আমরা আড়ৎ থেকে যেমন দামে মাল কিনি সামান্য লাভ তা ছেড়ে দিই। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বলতে পারবে আড়ৎ মালিক।

শহরের সদর হাসপাতাল মোড়, দড়াটানা, হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড, চৌরাস্তা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফলের দাম সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সদর হাসপাতাল মোড়, দড়াটানা এবং কালেক্টরেট ভবনের সামনের রাস্তায় অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা ভ্যানের উপর পসরা সাজিয়ে রাখা ফলের দামে বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। কালেক্টরেট ভবনের সামনের এসব দোকানে সবরকম ফলের দাম সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল মোড় থেকে চৌরাস্তা মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে আপেল জাতভেদে কেজি প্রতি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কমলা লেবু ২২০ থেকে ৩৩০ টাকা, বেদানা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা, কেনু ২৫০ টাকা, আঙুর ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, কালো আঙুর সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, তরমুজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, খেজুর ৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে এসব দোকানে স্ট্রবেরি কেজি প্রতি ১০০০ টাকা, আনারস ১২০ টাকা, শাকআলু ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেল পিস হিসেবে ৪০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

দড়াটানা ভৈরবপাড়ের ব্যবসায়ী মো. মিঠু বলেন, আমরা যেমন কিনি তেমন বিক্রি করি। বরঞ্চ দাম কম নিয়ে আমাদের টিকে থাকতে হয়।

সার্কিট হাউস যশোরের সামনে সামিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক পালন মোল্লা বলেন, আর দশটা দোকানের চেয়ে আমি কম লাভে ফল বিক্রি করছি। এটা আমার চ্যালেঞ্জ। আপনারা যাচাই করে দেখতে পারেন।

শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের হালিম শিকদার বলেন, এদেশে সবচে বেশি মুসলমানের বসবাস। অথচ মুসলিম ধর্মেরই এমন একটি মহিমান্বিত মাসে ফলসহ নানা দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে রোজাদারদের বেকায়দায় ফেলা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

খড়কি এলাকার বাসিন্দা সাইফুল হক হ্যাভেন বলেন, রমজানের দুদিন আগেও ফলের দাম স্থিতিশীল ছিল। রমজানকে টার্গেট করে অসাধু চক্র দাম বৃদ্ধি করেছে। যা জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করলে কমে আসবে বলে মনে করি।

যশোর মণিহার এলাকার ফল পট্টির বিভিন্ন দোকান ঘুরে অভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি মোকাম থেকে মাল কিনে যশোর সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকি। দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের বিষয়ে আমাদের কিছু করণীয় থাকে না। বিদেশি ফল আমদানি খরচ বৃদ্ধি পেলে সেটা তো ফলের উপরই বর্তাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মণিহার ফল পট্টির এক ব্যবসায়ী বলেন, ফলের দাম বৃদ্ধির দায় শতভাগ বাদামতলীর এটা আমি মানতে নারাজ। এখানেও অসাধু একটি চক্র আছে যারা এই রমজানে খেজুরসহ সব রকমের ফলের দাম সিণ্ডিকেট করে বৃদ্ধি করেছে। সেটা সাংবাদিক এবং প্রশাসন অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।

Share.
Exit mobile version