বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের ঝিকরগাছায় এক জামায়াত নেতা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বারবাকপুর গ্রামের খাল খনন বন্ধ করে দেয়ার কারণে জলাবদ্ধাতায় পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একই সাথে তার চাঁদাবাজি, পুলিশের দালালি, দখলদারিত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চালিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক অপকর্ম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গদখালি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ ৫ আগস্ট ফ্যাস্টিট আওয়ামী লীগ পতনের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি গদখালি ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেন। বারবাকপুর গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া স্কুল পাড়া খালটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিলে বারবাকপুর গ্রামের খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এই খাল সংস্কার করতে গেলে জামায়াত নেতা শরিফুল ইসলাম তার বাহিনী নিয়ে তাতে বাধা দেন। এতে করে বন্ধ হয়ে যায় খাল সংস্কার কাজ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে সাধারণ আওয়ামী কর্মীদের জিম্মি করে আদায় করেন লাখ লাখ টাকা। সম্প্রতি তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি নিরহ আওয়ামী লীগ সমর্থক ভ্যান চালক পঞ্চনগর গ্রামের মোতলেব হোসেন।
পাড়া প্রতিবেশি চাচাতো বোনকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় তাকে জেল হাজাতে পাঠান শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
ওই ধর্ষণ মামলার সাক্ষী সায়রা বেগম জানান, আমি কিছু দেখিনি। আমি কিছু জানি না। বিদ্যুৎ ওদের চাচাতো ভাই হয়। বিদ্যুৎ থানায় নিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলে মামলা দিয়েছে।
জামায়াত নেতা শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে বারবাকপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ দীর্ঘদিন গুপ্ত অবস্থায় পলাতক ছিলো।
বারবাকপুর-পঞ্চনগর গ্রামের মানুষরা কেউ জানতো না বিদ্যুৎ জামায়াতে ইসলাম করে। ৫ আগস্টের পর তার খোলস চেঞ্জ করে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এলাকায় খাল খনন- রাস্তার উন্নয়ন কাজ সব বন্ধ করে দিচ্ছে বিদ্যুৎ।
খাল সংস্কার সম্পর্কে জামায়াত নেতা শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, সরকারের খাস জমি যত টুকু আছে। সেটুকু কেটে চলে গেছে। যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা মিথ্যা ও বনোয়াট।
ধর্ষণের মামলা বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, আমি বাড়ি ছিলাম না। কয়েকদিন পর আজ বাড়ি এসেছি। আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না।
অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম বলেন, জামায়াত ইসলামীর কোন নেতা এমন অপকর্ম করতে পারে না। আমি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।
