বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেছেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি। বর্তমান বিশ্ব এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে যুদ্ধ ও অস্থিরতা, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি অনিরাপত্তা এবং সম্পদের সীমাবদ্ধতার মতো নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ মানবজাতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে শুধু নীতিনির্ধারণী আলোচনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুসংগঠিত গবেষণা ও উদ্ভাবন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের আয়োজনে “ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
উপাচার্য বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে টেকসই পদ্ধতির সমন্বয় এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ এবং মানবতার জন্য অপরিহার্য। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই প্রকৌশল বিদ্যা সমাজকে আধুনিকতায় রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় প্রকৌশলগত উদ্ভাবন সমাজকে প্রতিনিয়ত বদলে দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা শুধু প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষই না হয়, বরং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল এবং বিশ্বজনীন সচেতনতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি-এর কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উসমান গণি খান। তিনি “ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম আহমেদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পর পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইমরান খান, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচএম জাকির হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কামরুল ইসলাম এবং কনফারেন্সের সেক্রেটারি ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
