বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজার থেকে জব্দ করা জ্বালানি তেলের একটি অংশ সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সলুয়া বাজারের মিনা ফিলিং স্টেশনে জব্দ করে রাখা পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানান গেছে, জব্দ করা জ্বালানির মধ্যে ২৪২ লিটার পেট্রোল ও ৩৮ লিটার অকটেন ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়। মোট ১১৬টি মোটরসাইকেলে প্রতিটিতে দুই লিটার করে জ্বালানি তেল দেয়া হয়। এর মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বেশি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের পর জানতে পারি ডিপো থেকে তেল আনার পথে একটি চক্র গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে রাখে। পরে সেটা অধিক মূল্যে বিক্রি করে। এর সাথে ফিলিং স্টেশনের মালিকদের একটি যোগসাজস রয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে এলাকার বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে তেল বিক্রি করায় ক্রেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মাজহারুল ইসলাম নামে তেল নিতে আসা এক ক্রেতা বলেন, এভাবে জব্দকৃত তেল প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যদি বিক্রি করা হয় তাহলে দেশে কোন সংকট হবে না।
ইসমাইল হোসেন নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যে জায়গায় পাওয়া যায় সেখানে তেলের দাম বেশি রাখছে। তবে প্রশাসন জব্দকৃত তেল বিক্রি করছে এমন খবর পেয়ে এসে এখান থেকে ন্যায্য দামে তেল পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এদিকে মিনা ফিলিং স্টেশনের মালিক মুক্তার হোসেন দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কথাও জানান তারা।
তিনি আরো বলেন, ডিপো থেকে তেল আনার সময় ড্রাইভাররা তেল বিক্রি করে। এদের একটা গ্রুপ রয়েছে। তবে পাম্প মালিকদের কোন যোগসাজস নেই।
এর আগে রোববার বিকেলে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারের নিজাম স্টোর থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার ও জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দ করা তেলের একটি অংশ সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
