বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর রেলস্টেশনের গাড়োয়ান পট্টি এলাকায় প্রতিদিনই দেখা মেলে ছিন্নমূল শিশুদের। কেউ কাগজ কুড়ায়, কেউ ভিক্ষা করে, আবার কেউ দিন কাটায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই। জীবনের কঠিন বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এসব শিশুর হাতে বই-খাতা তুলে দিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ফিরোজা সমাজ কল্যাণ সংস্থা।
২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি সম্প্রতি বৃহৎ পরিসরে পথশিশুদের শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশু এখানে নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রেলস্টেশন এলাকার গাড়োয়ান পট্টিতে বসে এই ব্যতিক্রমধর্মী পাঠশালা। ছয়জন শিক্ষক স্বেচ্ছাশ্রমে শিশুদের অক্ষরজ্ঞান, প্রাথমিক শিক্ষা ও নৈতিকতা শেখাচ্ছেন। ক্লাস শেষে শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। যে খাবারে তাদের বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে।
সংগঠনের সভাপতি খায়রুজ্জামান, সম্পাদক তানভীর হায়দার, যুগ্ম সম্পাদক আহাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অনুপ কুমার বড়াল এবং স্বেচ্ছাসেবী সদস্য নাসিমা আক্তার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষক অনুপ কুমার বড়াল বলেন, পথশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও আমাদেরই সন্তান। সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে তারাও দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে।
ফিরোজা সমাজকল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আহ্বান জানাই- আসুন, আমরা সবাই মিলে এই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি।”
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুকে নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুরা যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়। আমরা শুধু তাদের অক্ষরজ্ঞান দিতে চাই না, ভবিষ্যতে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন উদ্যোগ শুধু শিক্ষাদান নয়, সমাজ পরিবর্তনেরও একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। অবহেলিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বপ্ন দেখাতে পারাটাই সবচেয়ে বড় মানবিকতা।
রেলস্টেশনের কোলাহলের মাঝেও ছোট ছোট শিশুদের হাতে বই-খাতা আর মুখে হাসি সেই দৃশ্য যেন নতুন এক আশার গল্প লিখছে যশোরে।
