বাঘারপাড়া সংবাদদাতা :
যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গত দুই দিনের টানা বর্ষায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে আছেন তিনটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দুটি কালভার্ট সংস্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভার চেয়ে সেই ইউনিয়ন পরিষদ থাকাই ভালো ছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সরেজমিনে পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি বাড়ির উঠানে ড্রেনের পঁচা পানি। এতে অনেকের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। একই সাথে ময়লা পানিতে চলাচল করায় অনেকের শরীরে খোস-পাচড়াও দেখা দিয়েছে।
পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউজ পাড়ায় (বিল পাড়া) বীর মুক্তিযোদ্ধা মান্নান শেখ, শহীদুল ইসলাম ও আলী বক্সের বাড়ি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি উঠে যায়। মান্নান শেখের স্ত্রী কুলসুম বেগম জানালেন, গত কয়েক বছর পানি বের হওয়ার কালভার্ট বন্ধ হওয়ায় বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি উঠে যায়।
তখন দুর্ভোগের শেষ থাকে না। একই অভিযোগ জানালেন, ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহমান মিন্টু ও ৯ নং ওয়ার্ডের জসিমের স্ত্রী মিতা বেগম। মিতা বেগম একটি ভবনের কাজ শুরু করেছেন। তিনি বর্তমানে যেখানে আছেন তার চারিদিকে হাটু পানি। রান্নাঘর, শৌচাগার ও মুরগির ঘর পানির নিচে। দিনের ১৬ ঘন্টায় তার পানিতে ভিজতে হয়। এতে তার ও সন্তানদের শরীরে খোস-পাঁচড়া দেখা দিয়েছে।
বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান মিন্টু বলেন, ৭,৮ও ৯ ওয়ার্ডের পানি মহিরন বিলপাড়ার দুটো কালভার্ট দিয়ে ঢেপোর খাল দিয়ে চিত্রা নদীতে যেত। এখানে ৭ নং ওয়ার্ডের শহীদুলের বাড়ির পাশের কালভার্টটি বিগত আওয়ামী লীগ আমলের মেয়র মাত্র ১২ ইঞ্চির একটি আরসিসি পাইপ ব্যবহার করে। যা দিয়ে অনেক ধীরগতিতে পানি নামে।
এছাড়াও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেটাও বন্ধ হয়ে আছে। ফলে ভারি বৃষ্টি হলেই বসত বাড়িতে পানি জামে যায়। এছাড়াও গত ২০/২১ অর্থ বছরে এডিপি প্রকল্পের আওতায় মহিরন বিলপাড়ার ছোট বটতলায় একটি কালভার্ট করা হয়। এর পাশের জমির মালিক কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করায় সেটাও দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে।
আব্দুর রহমান মিন্টু দাবি জানান, প্রশিকার মোড়ের ড্রেন পরিস্কার, শহীদুলের বাড়ির পাশে একটি কালভার্ট ও ছোট বটতলার কালভার্টটির মুখে মাটি অপসারণ করা গেলে তিনটি ওয়ার্ড জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচবে। এতে আমন চাষিরাও উপকৃত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৭নং ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানালেন, পৌরসভা হওয়ার পর জমি ও ঘর-বাড়ির ট্যাক্স বেড়েছে। কিন্তু নাগরিক সুবিধা মোটেই বাড়েনি। এর চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থাকাই ভালো ছিলো।
বাঘারপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এরপর টেকনিশিয়ানদের সাথে পরামর্শ করে ও দ্রুত সময়ে তিনটি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার স্থায়ি সমাধান করা হবে।
