জীবননগর সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। যেখানে নিজের সন্তানকেই অপহরণ করে মায়ের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছেন এক পিতা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং মানবিক মূল্যবোধ
নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় আপস নিস্পত্তি রফা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঘুগরাগাছি গ্রামের ৮ বছর বয়সের সিয়াম হোসেন নামের এক শিশুকে তার পিতা আজিজুল হক এবং সহযোগী আক্তার
হোসেন (২৬) পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে।
অপহরণের পর শিশুটিকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। পরে তার গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে ছবি তুলে প্রবাসে অবস্থানরত মায়ের কাছে পাঠানো হয়। শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিছু টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে অভিযানে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ।
অভিযানের একপর্যায়ে, একই দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জীবননগর উপজেলার পাকা গ্রামের দাসপাড়া থেকে অপহৃত শিশুটির পিতা আজিজুল ও তার সহযোগী আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় অপহরণের শিকার শিশু সিয়াম হোসেনকে সুস্থ ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া এবং বিকাশের মাধ্যমে আদায়কৃত ১০ হাজার তিনশ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, ভিকটিমের মা ভারতে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটানো হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ
আদায়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিশুটির খালু শহর আলী জানান, তার শ্যালিকা শাবানা খাতুন ভারতের বোম্বে শহরে থাকে এবং ভাইরা ভাই আজিজুল হক ও তার একমাত্র সন্তান সিয়াম হোসেন আমাদের সাথেই থাকে। আজিজুল হক কাজকর্ম করে না এবং একজন মাদকসক্ত।
ঘটনার ব্যাপারে আমি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করি।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও ঘটনার সাথে জড়িত শিশুটির পিতা ও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
