বাংলার ভোর প্রতিবেদক
টিকা নেওয়ার পরও যশোরে নিয়ন্ত্রণে আসেনি হাম আক্রান্তের সংখ্যা। বরং টিকা গ্রহণের গত ৪৫ দিনে নতুন করে মোট ৪৯৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হামের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া  গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলা থেকে প্রতিদিনই নতুন আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা দেয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অপুষ্টি, টিকার ডোজ অসম্পূর্ণ থাকা, সচেতনতার অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে ভুল ধারণার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে জেলার আট উপজেলায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর সংখ্যা হাসপাতালে বাড়তে থাকে। তবে যশোর পৌরসভা ও সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

হামের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত মোট ৬৬২জন শিশু হাম ও হামে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ৪০ শিশু। তবে ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে ১৬৩জন শিশু আক্রান্ত। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ছিল ২৫ জন শিশু। এদিকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় ৫ এপ্রিল থেকে। সেই হিসেবে গত ৪৬ দিনে নতুন করে ৪৯৯ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শিশু হামে আক্রান্ত। টিকা নেয়ার পরেও গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ শিশু হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু টিকা গ্রহণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দুই ডোজ পূর্ণ হয়নি। আবার কেউ কেউ টিকা নিলেও অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমিত হচ্ছে। এছাড়া এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মানুষের চলাচল বৃদ্ধি এবং জনসমাগমও সংক্রমণ ছড়ানোর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা ৫জন  অভিভাবক জানান, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরে শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে তারা হাসপাতালে আসেন। অনেক শিশুর শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকার গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, আমার সন্তান টিকা নিয়েছিল। তারপরও হামে আক্রান্ত হয়েছে। কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশি ছিল, পরে শরীরে দানা ওঠে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মণিরামপুর উপজেলার অভিভাবক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামে অনেকে এখনও হামকে সাধারণ রোগ মনে করেন। ফলে শুরুতে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে আনতে হচ্ছে।

যশোর আড়াইশ’ শয্যা জেনারেল হাসাপাতেল শিশু ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী বলেন, টিকা নেয়ার পরেও কেন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এটার উপরে গবেষণা চলছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টিকা সঠিকভাবে সংরক্ষিত ছিল না। ফলে টিকার কার্যকারিতা হারিয়েছে। অথবা টিকা প্রদানের সময় সঠিক পরিমানে টিকা দেয়া হয়নি।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, টিকার গুণগতমান ঠিক না থাকার কারণেও টিকা নেয়ার পরও হাম হতে পারে। একই সাথে ধারণা করা হচ্ছে, পুষ্টির অভাবেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

Share.
Exit mobile version