সুমন ব্রহ্ম, ডুমুরিয়া
ডুমুরিয়া উপজেলার ২শ’ ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ‘সোনার তরী’ বিদ্যালয়ে মাত্র ১ জন শিক্ষক দিয়ে দেড় বছর ধরে পাঠদান অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের দুর্গম-এলাকা ‘কোড়াকাটা গুকুরমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘সোনার তরী’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা সকলেই চলে যাওয়ার পর গত ২০২৪ সালের ৩ জুলাই সুজিত কুমার ভদ্র ও নীলা ঢালী ওই স্কুলে যোগদান করেন। আগস্ট মাসে দেশে পট-পরিবর্তনের পর নীলা ঢালী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ডেপুটেশনে শহরের কাছাকাছি চলে যান। সেই থেকে গত দেড় বছর ধরে মাত্র ১ জন শিক্ষকেই চলছে ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর পাঠদান।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ভবনের বাইরে পতাকা উড়ছে, ভেতরে ১টি কক্ষে ১ জন শিক্ষক দাড়িয়ে ২টি কন্যা শিশুকে পড়াচ্ছেন। আমাদের ডাকে গ্রিল খুলে দিলে শ্রেণি কক্ষে ওই ২ ক্ষুদে শিক্ষার্থীর বড়জন ২য় শ্রেণির শ্রুতি রায় বলে, ও অথৈ, আমার ছোটবোন, প্রাক প্রাথমিকে। তার কাছেই শুনি, ১ম শ্রেণিতে ১ জন, আজ অনুপস্থিত। ২য় শ্রেণিতে ২ জনের মধ্যে অন্যজন অনুপস্থিত। ৩য় শ্রেণিতে ৩, ৪র্থ শ্রেণিতে ৫ ও ৫ম শ্রেণিতে ৪ জন আসবে দ্বিতীয় শিফটে।

লাইব্রেরিতে বসে শিক্ষক সুজিত ভদ্র তার ও বিদ্যালয়ের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, একে শিক্ষক সংকট, তার ওপর যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব খারাপ। সর্বোপরি অভিভাবকরা যেখানে পড়ানোর মান ভালো, সেখানেই যাবে। ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি বিমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, এমনিতেই এলাকায় জনবসতি তথা ছাত্র-ছাত্রী কম। তাছাড়া ১ জন শিক্ষকই স্কুল চালাচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রী থাকে ? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতা বলেন, আমাদের উপজেলায় হাজারেরও অধিক শিক্ষক আছেন।

উপজেলার কয়েকটি স্কুলে ৮-১০ জনও রয়েছেন। অফিস ইচ্ছা করলে তো সেখানে আরও ১ জন শিক্ষককে দিতে পারতো।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান মাত্র একজন শিক্ষকই গত দেড় বছর ধরে পাঠদান অব্যাহত রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, ইতোপূর্বে একাধিক শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ’২৪ সালে ২ জন যোগদান করেন।

নারী শিক্ষকের যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার চরম দূরাবস্থা বিবেচনায় নিয়ে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। অবশ্য দেড় বছরেও অন্য কোনো শিক্ষক না দেয়ার কারণ তিনি বলেননি। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, আমি এ বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

Share.
Exit mobile version