বাংলার ভোর প্রতিবেদক
কাল যশোর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। আগামী ২৭ এপ্রিল তার এই সফর ঘিরে ঘোষণা করা হয়েছে বিস্তর কর্মসূচি। প্রশাসন ও জেলা বিএনপির প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।
শহরজুড়ে চলছে প্রচারপত্র বিতরণসহ, মিছিল প্রথসভাসহ নানা কর্মসূচি। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথমবারের মতো যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্রুয়ারি এ জেলা সফর করেছিলেন। দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় যশোরবাসীর কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাঁর এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সফরসূচি অনুযায়ি, এদিন যশোরে এসে তিনি প্রথমে শার্শার উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এই খাল খননের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি যিনি দেশব্যাপি খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫শ’ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ফলে স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে উন্নয়নের ধারবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
এদিকে যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পরও নেই হাসপাতাল। শিক্ষার্থীদের ৫ কিলোমিটার দূরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয় ইন্টার্নশিপ করতে। এতে শিক্ষার্থীদের যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তেমনি রোগীরাও কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হলে তাদেও ভোগান্তির অবসান হবে। এছাড়া যশোরের চিকিৎসা কার্যক্রম প্রসারিত হবে বলে অভিমত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।
নগরবাসী বলছেন, বড় কোন রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য খুলনা ও ঢাকায় রোগি নিয়ে যেতে হয়। এবার এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে। তারা আরো বলছেন, অনেক সময় মুমূর্ষু রোগি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়।
সফরের দিন যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ আগমন ঘিরে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের জন্য বসার আয়োজনসহ সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন বলেও জানা গেছে দলের পক্ষ থেকে।
রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বলছেন, যশোরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিএনপির শাসন আমলে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেগুলো সংরক্ষণের আভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস ইসলাম বলেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র দুই মাসের মধ্যে আবারো যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই আগমনে যশোরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ হবে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, একসময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ অঞ্চলের উন্নয়নের কারিগর তরিকুল ইসলামের হাত দিয়ে যশোর উন্নয়নের যে সূচনা হয়েছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় তাদের সন্তানের হাত ধরেই ঘুরবে উন্নয়নের চাকা।
যুবদল নেতা আনছারুল হক রানা বলেন, গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ শাসন আমলে বিএনপির উন্নয়নমূক কাজগুলো ধ্বংস করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারো সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ফিরে আসবে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ জেলার উন্নয়নের সিংহভাগ বিএনপির শাসনামলগুলোতে হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দম্পতির উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যশোরের সাবেক মন্ত্রী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তাই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে যশোরবাসীর প্রত্যাশা অনেক।
