তালা (পৌর) সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার তালায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম প্রকল্পের নামে টন টন টিআর হরিলুট করছেন। এছাড়াও নতুন নির্মাণাধীন রাস্তা মাপতে গেলেই রাস্তা প্রতি তাকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা। আর নতুন প্রকল্প নিলে লাখে ১০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শহীদ মিনার মাঠে মাটি ভরাটে ৫ টন টিআর বরাদ্দ হয়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কিন্তু কোন রকম দায়সারা কাজ করেন প্রকল্পের সভাপতি বর্তমান খলিলনগর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র। কিন্তু বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন আমাকে নামমত্র সভাপতি রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহান্দী গ্রামের মোকাম সরদারের ছেলে শাহিনকে দিয়ে কাজটি করান।
ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের অর্ধেক টাকা তোলা হলেও তা দিয়ে করা হয়েছে জানিনা। তবে যেটুকু শুনেছি তাতে টাকা উত্তোলন করে পিআইও নিজে নিয়েছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন প্রকল্পের সকল দায়ভার প্রকল্পের সভাপতির উপর।
এদিকে, এলাকাবাসী বলছেন, মাঠটি ভরাটে মাত্র তিন ট্রলি মাটি ফেলা হয়েছে। যা দিয়ে মাঠটির দুবলো ঘাসও ঢাকা যায়নি। এ অবস্থায় এলাকাবাসী এই অনিয়ম দুর্নীতি সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, আমরা সদস্যরা যত রাস্তা ইটের সলিং করেছি তা মাপের সময় সকল রাস্তা প্রতি দুই হাজার করে টাকা দিতে হয় পিআইও স্যারকে। এছাড়াও নতুন প্রকল্প নিলে লাখ প্রতি দিতে হয় ১০ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে শাহিন বলেন, আমি মাটি ভরাট করেছি ১ শ ৪০ গড়ি। ওখানে আরো মাটি ভরাট করা হবে।
প্রকল্প সভাপতি খলিলনগর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, শুনেছি ওই প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আমি ওখানে যাব এবং দেখবো কোন অনিয়ম হলে আমি ছাড় দেব না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মহান্দী শহীদ মিনারের মাঠে মাটি ভরাটের কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। অফিসের নিয়ম অনুসারে প্রকল্পের অর্ধেক টিআর উত্তোলন করা হয়েছে। কাজের অনিয়মের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ হোসনেয়ারা বলেন, বিষয়টি তো আমার জানা নেই নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখি। কোন অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
