বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরতলীর শংকরপুর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন যশোর টার্মিনাল ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে পেট্রল বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের পাশ কাটিয়ে টাকার বিনিময়ে সিরিয়ালবিহীনভাবে তেল সংগ্রহের সুযোগ করে দিচ্ছে।

সরেজমিনে নুসন্ধানে জানা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু মজুদদার বেশি দামে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আর সেই চাহিদা পূরণেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে কথিত ওই দালালচক্র।

দালাল সিন্টিকেটের সদস্য টাকার বিনিময়ে মোটসাইকেলে তেল সংগ্রহ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বিনিময়ে এসব দালাল নির্ধারিত সিরিয়াল ছাড়াই দ্রুত তেল নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এতে সাধারণ মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই দালালচক্রের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। তার সহায়তায় এলাকার কিছু বখাটে যুবক এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এদের মধ্যে ইজিবাইক চালক আলম, সাদ্দাম, অপু ও সবুজসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে গেলে তারা এ সাংবাদিককে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

আরও জানা গেছে, এই চক্র শুধু তেল সংগ্রহেই নয়, বরং কখনও কখনও পাম্পের তেল বিক্রি ও বণ্টন ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব বিস্তার করে। ফলে প্রকৃত গ্রাহকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং একটি অসাধু সিণ্ডিকেট গড়ে উঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দালাল সাদ্দাম তাঁর চুক্তকৃত গ্রাহককে তেল নিতে সহায়তা করছে

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দালালরা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যে বিভিন্ন সময় তারা সাধারণ ভদ্রলোক ও গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটিয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো বা লাইনের বাইরে সরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাও নাকি ঘটছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ভুক্তভোগীরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version