বাংলার ভোর প্রািতবেদক
দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহণকারী যশোরের ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রোববার বেলা ১১ টার দিকে তিনি যশোরের ঐতিহাসিক এই পাঠাগারে এসে লাইব্রেরির বিভিন্ন সংগ্রহ ঘুরে দেখেন এবং ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দের ঘোষণা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত তালপাতায় লেখা প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, পুরোনো গ্রন্থ এবং ঐতিহাসিক দলিরপত্র ঘুরে দেখেন। তিনি পাঠাগারের ঐতিহ্য ও জ্ঞানভান্ডারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এসব সংগ্রহ দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ।

এছাড়া মন্ত্রী যশোর ইন্সটিটিউট চত্বরে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন টাউন ক্লাবও ঘুরে দেখেন। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাবটি যশোরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এর যশোর জেলা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। বৈঠকে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, শিল্পচর্চা ও পাঠাগারভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গত ২০ বছর দেশ একটা অন্ধকার ঘন কালো তমচ্ছান্ন অন্ধকারে ছিল । এই অন্ধকার ভেদ করে আমরা নতুন প্রভাতের সূচনা করতে চাই। ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা জীবনের গান গাইতে চাই।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে পাঠারগারমুখি করতে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। দেশের পাঠাগারগুলোকে আরও আধুনিক, আকর্ষণীয় ও নান্দনিক পরিবেশে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পাঠাগারকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে নতুন প্রজন্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসে বই পড়ে, গবেষণা করে এবং জ্ঞানচর্চায় যুক্ত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং আমাদের ইনস্টিটিউটের একগুচ্ছ দাবি আমরা অফিশিয়ালি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রী মহোদয় ইতোমধ্যেই আমাদের বড় একটি সুখবর দিয়েছেন। আমরা ভালো কিছু আশা করছি।

আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেনে খোকন, বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, যশোর ইনিস্টিউটের সহ সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক, যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মোর্তজা, সাধারণ সম্পাদকসহ পর্ষদের সদস্য, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি দেশের অন্যতম প্রাচীন গণপাঠাগার। দীর্ঘদিন ধরে এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চালের জ্ঞানচর্চা সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রে হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্কৃতিমন্ত্রীর এ সফর এবং উন্নয়ন বরাদ্দ ঘোষণায় পাঠাগারটির আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Exit mobile version