নড়াইল সংবাদদাতা

নড়াইল সদর উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত একই গ্রামের রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে (৩৫) গ্রেফতারের পর পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক রবিউলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রবিউলকে নড়াইল সদর আমলী আদালতে তোলা হলে বিচারক মারুফ হাসান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকউটর অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত রবিউল শিকদার ওরফে রবিকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে প্রথমে নড়াইল সদর থানায় নিয়ে যায়।

সেখান থেকে মাইক্রোবাসে করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেয়ার সময় টার্মিনাল এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ গাড়িটির গতিরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিন শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আটক রবিউল শিকদারকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এ সময় প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত রবিউলের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনসাধারণ।

উল্লেখ, গত সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের আতিয়ার শিকদারের ছেলে রবিউল শিকদার ওরফে রবির বিরুদ্ধে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রবিউলের ঘরের ভেতর শিশুটিকে কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। পরে রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন।

Share.
Exit mobile version