রেহানা ফেরদৌসী
নারী দিবস বলতেই আমরা সবাই শুধু নারীদের পিছিয়ে রাখার,বন্চিত করার গল্প শুনি এবং বলি।তবে আজ বাংলাদেশের নারীদের জয় যাত্রার কথা এবং কিভাবে তা আরো বৃদ্ধি করা যায়…তা নিয়ে লিখবো!

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান বেশ উন্নত। নারীরা এখন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে।বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪৫ লক্ষ নারী কর্মরত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক “নারী উদ্যোক্তা ফাইন্যান্সিং স্কিম” চালু করেছে, যার সুদহার ৪% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে।নারীরা এখন ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করছে, ৫৫% নারী মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করছে।নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।নারীরা পোশাক শিল্পে বিপ্লবের সূচনা করেছে।এখন কৃষি, শিল্প, এবং সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।নারীর এ অগ্রযাত্রা কে এগিয়ে নিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন ঋণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও বেতন বৈষম্য এবং সামাজিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।যা পরিবর্তন এখন সময়ের ন‍্যায‍্য দাবি।পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আবার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।নারীরা সংসদে ৫০টি আসন সংরক্ষিত পেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করে।নারী নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ইতোমধ্যেই অধিষ্ঠিত রয়েছেন।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ নারীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।তবে নারীরা এখনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, যেমন নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা।তবে, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।নারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হচ্ছেন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিক ক্ষেত্রে নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায়।

তবে, নারীদের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন:নারীরা এখনও নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত।এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে। নারীদের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে, কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও নীতি প্রণয়ন করা উচিত।নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রশিক্ষণ তা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে।নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।

নারী মানেই শুধু পিছিয়ে পড়া গল্প নয়,নারী মানেই।প্রতিবন্ধকতা সকল ক্ষেত্রে ছিলো,আছে এবং থাকবে।তবে এরই মাঝে নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাবে…আলোকিত নারী!এবারের নারী দিবসের যে প্রতিপাদ্য বিষয় Give to Gain” অর্থাৎ “দেওয়ার মাধ্যমে লাভ করা”। যা নারীদের অধিকার, সমতা এবং ক্ষমতায়নের জন্য দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে…আর তা নারীর অবদান কে গুরুত্ব ও সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হলেই অর্জন করা সম্ভব হবে।

Share.
Exit mobile version