বাংলার ভোর প্রতিবেদক

নেই কোন গোয়াল, নেই কোন গরু তবু সেখান থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে মণ মণ গরুর দুধ। যশোরের কেশবপুরে এমনই এক দুধ সরবরাহ ও তৈরির কারখানায় সোমবার হানা দেয় র‌্যাব ও ভোক্তার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আর হানা দিয়ে হয়ে যান অবাক। রাসায়নিক জেলি, সয়াবিন তেল ও সোডা মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ মণ গরু দুধ !

এ সময় ওই চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেন সংশ্লিষ্টরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

সোমবার উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের ঘোষপাড়ায় র‌্যাব-৬ (সিপিসি-৩) এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে ক্যাম্প কমান্ডার মেজর এটিএম ফজলে রাব্বী প্রিন্সের নেতৃত্বে অভিযান চালান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন অরুপ ঘোষ, রামপ্রসাদ ঘোষ, বুদ্ধদেব ঘোষ, মিলন ঘোষ ও স্বপন ঘোষ।

এ ছাড়া পার্থ ঘোষকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল, সোডা এবং ভেজাল দুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা ক্ষতিকর উপকরণ জনসম্মুখে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দুধে জেলি ও রাসায়নিক মিশিয়ে যারা সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযান শেষে যশোর র‌্যাব-৩ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এ ধরণের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

Share.
Exit mobile version