চৌগাছা সংবাদদাতা
দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় ভুগছেন চৌগাছা পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর উন্নত নাগরিক সেবার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে চৌগাছা বাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
বাজারের ব্রিজঘাট এলাকায় ব্যবসা পরিচালনাকারী শাহাবুদ্দিন স্যানিটারির মালিক সোহেলসহ মিলন, রাসেল, ইকবাল ও লাল জানান, ব্রিজের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছা বাজারের বিভিন্ন স্থানে অবাধে প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রি চলছে। বিশেষ করে মহেশপুর রোডের ব্রিজঘাট এলাকার দক্ষিণ পাশে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য, পলিথিন ও আবর্জনা স্তুপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে এসব বর্জ্যরে একটি বড় অংশ পাশের নদীতে গিয়ে পড়ে। যা পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে পলিথিনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও বর্তমানে সেই তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রকাশ্যেই পলিথিন বিক্রি হচ্ছে এবং ব্যবহারকারীরা কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন না।
এদিকে পলিথিনের অবাধ ব্যবহার ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্যও বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। ড্রেনে জমে থাকা পলিথিন ও বর্জ্যরে কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই নয়, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ড্রেন ও সড়ক জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে। বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাসিবের দোকানের পাশের ড্রেনের অংশ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে থাকলেও তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এতে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এদিকে, বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে মাসিক ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। একটি ভবনে পাঁচটি পরিবার থাকলে মোট ৫০০ টাকা নেয়া হলেও সে অনুযায়ী সেবা পাওয়া যায় না। ফলে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এ অবস্থায় পৌরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের আশু হস্তেক্ষপ কামনা করেছেন।
