পাইকগাছা সংবাদদাতা :
খুলনার পাইকগাছায় গৃহবধূ রিংকু সরদারের (২৭) রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে মায়ের মৃত্যুর পর একমাত্র শিশু কন্যা প্রজ্ঞার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মায়ের শূন্যতায় অবুঝ শিশু প্রজ্ঞা সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। বর্তমানে সে উপজেলার সোলাদানা এলাকার আমুরকাটা গ্রামে মামার বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রিংকুর স্বামী নিবারণ সরদার নিজের মেয়ের কোনো খোঁজখবর নেননি। নিহতের ছোট চাচা নিশিথ সরদার দাবি করেন, মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে নিবারণ বিভিন্ন অজুহাতে রিংকুর পরিবারের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। এছাড়া বিয়ের সময় প্রায় ২ ভরি ১০ আনা স্বর্ণালঙ্কারও দেয়া হয়েছিল।
রিংকুর বাবা উপানন্দ সরদার অভিযোগ করেন, গত ২ জুলাই রাত ১১টার পর নিবারণ বাড়িতে ফেরেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রিংকুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গরুর গোয়ালের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পরদিন সকালে বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় ৩ জুলাই পাইকগাছা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (নং-২২) দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল ইসলাম।
নিহতের পরিবার আরও অভিযোগ করে, বিয়ের পর থেকেই নিবারণ মোবাইল ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় রিংকুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন সমঝোতার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ নির্যাতনের কারণে রিংকু বাংলা ৮ বৈশাখ বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে শ্বশুর-শাশুড়ির অনুরোধে আবার স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিবারণ সরদারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বাইনবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনার দিনই ওই ক্যাম্পে যোগদান করেছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছেন, নিবারণ প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড-সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
