বাগআঁচড়া সংবাদদাতা
ব্যক্তিগত জমিতে তৈরি পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং আশপাশের অন্তত ৪০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আল-মাদিনাতুল ফোরকানিয়া কওমি মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ড্রেনটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হতেই পুরো এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান ভরা বর্ষা মৌসুমে স্কুল মাঠে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি থমকে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। একই সাথে মাদ্রাসা পাড়ার প্রধান চলাচলের রাস্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জানা যায়, উক্ত এলাকার দীর্ঘদিনের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২০২১ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু প্রায় ৫০০ ফুটের একটি পাকা ড্রেন নির্মাণ করেন। ড্রেনটি নির্মাণের পর থেকে এলাকার পানি নিস্কাশন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মোছা: পারভিন নামে স্থানীয় এক নারী তার নিজস্ব জমি বরাবর ড্রেনের অংশটি সম্পূর্ণ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। এরপর থেকেই মূলত এই কৃত্রিম ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সূত্রপাত ঘটে।
রুদ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন বর্তমান স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন কমিটি গঠনের পর সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়া হবে। জলাবদ্ধতার এই চরম ভোগান্তির কথা উপর মহলের সবাই অবগত আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযুক্ত মোছাঃ পারভিন খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মামা ইমানুর রহমান ড্রেন ভরাট করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন-পারভিনের মালিকানাধীন ৫ শতক জমির ওপর দিয়ে এই ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত কারণে সে এখন আর তার জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দিতে রাজি নয়।
এদিকে একটি ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যেভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, তাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। বর্ষার পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থ ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করা অনেক বেশি জরুরি। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ ভরাট অপসারণ করে ড্রেনটি উন্মুক্ত করতে এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহানা বানু জানান, দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলবদ্ধতার বিষয়টি আমি জানি না। সাংবাদিকের মাধ্যমে জলবদ্ধতার বিষয়টি শুনেছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, তার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
