বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাসে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহার করেছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার পুলিশ সুপারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা এ ঘোষণা দেন।
এর আগে সকালে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নওয়াপাড়ায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। হরতালের কারণে যশোর-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়ে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের কার্যক্রমও। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
সকাল থেকেই হরতাল সমর্থকরা যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। কোথাও আড়াআড়িভাবে বাঁশ বেঁধে, কোথাও চেয়ার বসিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দেখা গেছে, নওয়াপাড়া বাজারের প্রায় সব দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রাজঘাট এলাকায় সড়কে বাঁশ বেঁধে অবরোধ করা হয়। নূরবাগ এলাকায় মহাসড়কের ওপর চেয়ার বসিয়ে অবস্থান নেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
হরতালের কারণে নওয়াপাড়া দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি বাইসাইকেল চলাচলও বন্ধ ছিল। ভৈরব নদের ঘাটে নোঙর করা তিন শতাধিক পণ্যবোঝাই কার্গো ও বার্জ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নওয়াপাড়ার পীরবাড়ি মাদ্রাসার পাশে আনিসুর রহমানের মালিকানাধীন বহুতল মার্কেটের সামনে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আনিসুর রহমান নওয়াপাড়া বাজারের সার, খাদ্যশস্য, কয়লা ও সিমেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ বকস সরদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নওয়াপাড়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মাহমুদ হোসেন ও নাসির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি শাহ মাহমুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভা থেকে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, পুলিশ শুক্রবারের মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে। যদি তা না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
