হিমেল খান :
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালচনা। কৃষি, রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যশোরের নেতৃবৃন্দ ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

কেউ বাজেটকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ একে জনবান্ধব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন যশোর জেলা সভাপতি রাশেদ খান বলেন, বাজেটে প্রতিবারের মত এবারও কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা কালোটাকার মালিকদের পুরস্কৃত করে এবং দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়।তার মতে, একটি জনবান্ধব বাজেটের জন্য প্রয়োজন ধনীদের ওপর অধিক প্রত্যক্ষ কর, অর্জিত সম্পদের ওপর কর চালু করা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বাসস্থানকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি, বছরব্যাপি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নাগরিকদের নাগালের মধ্যে রাখা। প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষি উৎপাদন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার প্রতিফলন বাজেটে নেই। তিনি বলেন, উন্নয়ন বাজেটের কত অংশ উৎপাদন খাতে এবং কত অংশ আবকাঠামো খাতে ব্যয় হবে, তা স্পষ্ট নয়। উৎপাদনের তুলনায় অবকাঠামো খাতে ব্যয় বেশি হলে শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যক্ষ উপকার হবে না
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, এটি জণগণের কল্যাণমুখী বাজেট নয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যশোর জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যও বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন। তার আশঙ্কা, এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘাটতি বাজেটে পরিণত হতে পারে।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে এটি জনবান্ধব ও সময়োপযোগী। সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এ জন্য তিনি সরকারকে অভিনন্দন জানান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি এবং দেশের মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশের সমান। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

Share.
Exit mobile version