বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিভিন্ন আইন নিয়ে পার্লামেন্টে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধন করে পুনরায় বিল আকারে সংসদে আনা হবে।

একটি হলো বিচার বিভাগ পৃথক সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন। এই ৪ টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আমরা পার্লামেন্টে স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা প্রত্যেকটি আইন যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।

শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের দ্বার উদ্বোধন ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী আরো বলেন, বিচার বিভাগকে সচিবালয় করার যে একটি দাবি এটি অনেক জুসি দাবি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। তবে আইন মন্ত্রণালয় কখনোই একজন সহকারী জজকে বদলি করার ক্ষমতা রাখে না। সর্বোচ্চ একটি প্রস্তাব পাঠাতে পারে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। তবে বিগত সময়ে আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেখেছি। এতটাই স্বাধীনতা ছিলো যে, বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন বিচার বিভাগ চাই যে বিচার বিভাগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতি মুক্ত হবে না। এই দুর্নীতির পথ আমরা বন্ধ করতে চাই।

মন্ত্রী বলেন, একই ভাবে গুম কমিশনও ত্রুটিপূর্ণ রয়েছে। তাই আমরা বলেছি এগুলো যাচাই বাছাই করে আনবো। তবে এটা নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। আমরা এই সমস্ত দুর্নীতির শিকড় তুলে আনতে চাই।

এ সময় মন্ত্রী বক্তব্যে জুলাই সনদ নিয়ে বলেন, জুলাই সনদ নিয়েও সংশয় আছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জুলাই সনদ আদেশ দিলেন, সে আদেশের কোন অইনি ভিত্তি নেই। তবে গণভোটে চারটি প্রশ্ন দেয়া হয়েছিলো বিএনপি বলেছিলো আমরা হুবহু মানবো। তবে এই চারটি প্রশ্নের মধ্যে প্রতারণার অংশ দিয়ে দিলে বিএনপি বলেছে প্রতারণার এই অংশ আমরা মানিনা।

এছাড়া আইনমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর আদালতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যাতে বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবীরা মৃত্যুর পর কোটি টাকা পেতে পারেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অন্যান্যরা।

সভায় বক্তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার এবং আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক জেলা জজ ও দায়রা জজ পরিত্যক্ত ভবন পরিদর্শন করেন। একই সাথে সংস্কারে আশ্বাস দেন।

Share.
Exit mobile version