বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টাই সুস্থ, পরিকল্পিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। রোববার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
‘তারুণ্যের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. দিলদার এবং যশোর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিন রহমান হক।
বক্তারা বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ও স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মা ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আরও উৎসাহিত করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
জেলা পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্তরা
শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলার ঝিকরগাছা ইউনিয়নের ২/খ ইউনিটের শারমিন আক্তার, শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মিলটন কবিরাজ এবং শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে চৌগাছা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মোছা. নাছিমা রহমান সম্মাননা লাভ করেন।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের জামিলা খাতুন, শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবে চৌগাছা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (কুঠিবাড়ী) এবং শ্রেষ্ঠ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবে যশোর সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্বাচিত হয়।
প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়ন পরিষদ এবং শ্রেষ্ঠ উপজেলা হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদ পুরস্কৃত হয়। বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সিডিবিভিত্তিক শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফপিএবি যশোর এবং ক্লিনিকভিত্তিক শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেরী স্টোপস যশোর সম্মাননা অর্জন করে।
সদর উপজেলা পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্তরা
সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে রামনগর ইউনিয়নের ১/গ ইউনিটের তানিয়া খাতুন, শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হিসেবে ইমরান খান, শ্রেষ্ঠ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে মর্জিনা খাতুন এবং শ্রেষ্ঠ উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে জামিলা খাতুন সম্মাননা লাভ করেন।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র হিসেবে রামনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ পুরস্কৃত হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. দিলদার মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
