হিমেল খান
যশোর সদরের শানতলা এলাকায় ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে নির্মাণাধীন বাফার সার গুদামের পাইলিংয়ে ব্যবহৃত ডিজেল হ্যামারের তীব্র কম্পনের কারণে আশেপাশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং কম কম্পনের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রোববার প্রতিকার দাবি করে স্থানীয়দের একটি প্রতিনিধি দল প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

সদর উপজেলার শানতলা এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন একটি বেসরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু পাশেই বাফার সার গুদাম নির্মাণে ডিজেল হ্যামার যন্ত্র দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হতেই তার সেই নতুন ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। তিনি জানান, এটি তার জীবনযাত্রার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। শুধু তার বাড়ি নয়, আশপাশের বিভিন্ন বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

শুধু জামাল উদ্দিনই নন, আশেপাশের কয়েকাট বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। নির্মাণাধীন প্রকল্পের পাশেই একটি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এর মালিক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ আলী বলেন, এই ডিজেল হ্যামার ব্যবহারের ফলে এলাকায় নিয়মিত কম্পন অনূভুত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ প্রতিকারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

পাশেই স্থানীয় এক চায়ের দোকানদার রকিব জানান, পাইলিংয়ের সময় আশেপাশের বড় বড় ভবন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দ ও মাটির কম্পনের কারণে এলাকায় বসবাসকারী বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা আতঙ্কে থাকেন।

মনিরুজ্জামান লিটন নামে এক ব্যবসায়ী জানান, পাইলিংয়ের সময় কম্পন এতটাই বেশি হয় যে পাশের দোকানপাটে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যায় না।

এদিকে স্থানীয় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ডিজেল হ্যামারের কারণে সৃষ্ট কম্পনের মাত্রা এতে বেশি যে আশেপাশের স্থাপনার কাঠামোগত স্থায়ীত্বের ওপর প্রভাব ফেলছে। তারা জানান, আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার না করলে ভাবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আশেপাশের হিমাগার ও গুদামগুলোতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইণ্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫ দশমিক ২৬ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বাফার সার গুদাম। প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের সার সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা। শানতলা স্থাপত্য এলাকার নির্মাণ কাজে প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আবু মুসা মুহাম্মদ তালহা জানান, স্থানীয়দের অভিযোগ শুনেছি। তবে প্রকল্পের নকশায় ডিজেল হ্যামার পদ্ধতিই উল্লেখ রয়েছে। অন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হলে নকশা পরিবর্তন করতে হবে। যা সময়সাপেক্ষ।

এই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার অভিজিত দাস বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য কাজ করতে এসেছি, কিন্তু জনগণের অসুবিধা হোক এটা আমরা চাই না। এ ব্যাপারে হেড অফিসে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সিদ্ধান্ত চলে আসবে।

এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সোলজার রহমান জানান, ডিজেল হ্যামার পদ্ধতি মাটিতে বেশি কম্পন হয়, শব্দ ও বায়ুদূষণও বৃদ্ধি পায়। আধুনিক হাইড্রোলিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়।

তিনি আরো জানান, তিনি নিজ উদ্যোগে প্রকল্পের পরিচালক মঞ্জুরুল হকের অফিস গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে এ বিষয়ে তেমন একটি গুরুত্ব দেয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, প্রকল্পের কাজ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরো বেশি ফাটল দেখা দিতে পারে। তারা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যাতে আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version