বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ময়নাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী হেলাল হোসেন ও সৎবাবা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আটক হেলাল হোসেন মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপর আসামি রফিকুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার রামনগর এলাকার বাসিন্দা। নিহত তাসলিমা আক্তার ময়না মোহনপুর এলাকার মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা জানান, তাসলিমার নামে থাকা তিন শতক জমি এবং নগদ দুই লাখ টাকা গ্রহণ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্প ফেরত নেয়া ও জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এ নিয়ে তাকে প্রায়ই মারধর ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তাসলিমা তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ১১ জুন রফিকুল ইসলামের বাড়ির উঠানে বসে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৮ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তাসলিমাকে হেলাল হোসেনের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় ডেকে নেয়া হয়। সেখানে তার ব্যবহৃত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় হেলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম পরস্পরের সহযোগিতায় ঘটনাটি সংঘটিত করেন। পরে আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। পরে গ্রেপ্তার হেলাল হোসেনের দেয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুকুর থেকে ওই ওড়নাটি উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
