বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার রাতে মণিরামপুরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং অর্থ লেনদেন, তিন ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
শুক্রবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মণিরামপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক গাজী দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিল্লাল গাজী ও সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবীব লিটন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন ও রেজাউলসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতের অবস্থানের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশকে সহযোগিতার জন্য জানানো হলেও তারা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে বিএনপি। যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জামায়াতের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে বিএনপির ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত নয়।
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ জানান, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে জামায়াতের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম পৌঁছায়।
এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীদের বের করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরাই হামলা করেছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কোন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। অভিযোগ পেলে ঘটনার যাচাই বাছাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় সকালে মণিরামপুর স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে নেতাকর্মীরা।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
