বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মণিরামপুরে মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোরের মণিরামপুরে বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলায় জামায়াত নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হকের উপস্থিতিতে সম্মেলনে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ তিন দফা দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন যশোর-৫ মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন ৩০ এপ্রিল যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্যের বাসার নিচে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিল্লাল গাজী, সাইদুল ইসলাম ও ইজাজুলের নেতৃত্বে মামুন, মাসুদ (ছোলা মাসুদ), কামরুল, শফিয়ার, সিরাজসহ ৩০/৪০ জন বিএনপির নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
এ সময় তারা উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ওই ঘটনায় জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবীব লিটন, ইঞ্জি. ফারুক হোসেন, রেজাউলসহ অন্তত ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুল হক দাবি করেন প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাব ও তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না করার কারণেই এ হামলার ঘটনা ঘচে। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় বিএনপি দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে সেটাকে মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দু’ গ্রুপের সংঘর্ষ বলে প্রচার করছে।
বিএনপি নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামায়াতের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্যই এই হামলা চালিয়েছে বলে সম্মেলনে দাবি করা হয়। সম্মেলনে জানানো হয়, কার্যালয় ভাংচুরের প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ মিছিলের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রশাসনের অনুরোধে মিছিল থেকে জামায়াতে ইসলামী বিরত থাকে।
কিন্তু রাত সাড়ে দশটার দিকে নেতাকর্মীরা বাড়িতে যাওয়ার পথে মণিরামপুর হাসপাতালে পৌঁছালে আতিয়ার, পারভেজ, সিরাজ, জিয়াউর, মনির, উসমান, শরিফুল, ইমদাদুল, সাজেদুল সহ ২৫/৩০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নেতাকর্মীদের উপর পুনরায় অতর্কিত হামলা করে। এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা লিয়াকত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।
তার ধস্তাধস্তি এবং ডাক চিৎকারে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দলীয় কর্মী আনাস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় মাওলানা লিয়াকত আলীকে রামদা দিয়ে উপর্যপুরী কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে জামায়াত কর্মী আবু তালহাকে কুপিয়ে রক্তাত্ত জখম করা হয়, আব্দুল মোমিনকে উপর্যপুরী পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়।
সম্মেলনে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিসহ দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। একই সাথে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে। অন্যথায় যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দায়ি থাকবে বলে জানানো হয়।
