বাংলার ভোর ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮৫টি দেশে পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে অনেক দেশে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে।
যেসব দেশে দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ভিয়েতনাম – প্রায় ৫০% বৃদ্ধি
লাওস – প্রায় ৩৩% বৃদ্ধি
কম্বোডিয়া – প্রায় ১৯% বৃদ্ধি
ফিলিপাইন – প্রায় ১৮% বৃদ্ধি
অস্ট্রেলিয়া – প্রায় ১৮% বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র – প্রায় ১৭% বৃদ্ধি
পাকিস্তান – উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
ভারত – আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে বৃদ্ধি
বাংলাদেশ – আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকটের কারণে বৃদ্ধি
দক্ষিণ কোরিয়া – দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত
জাপান – আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের কারণে বৃদ্ধি
জার্মানি – খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধি
ফ্রান্স – জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে
ইতালি – দাম বৃদ্ধি অব্যাহত
থাইল্যান্ড – প্রায় ১৫–১৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও এই পরিস্থিতির বাইরে নয়। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশ ভর্তুকির মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, আবার কিছু দেশে বাজারভিত্তিক মূল্য ব্যবস্থার কারণে দাম দ্রুত বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রয়োজনে সদস্য দেশগুলোর কৌশলগত তেল মজুদ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে সরবরাহ সংকট কমে এবং দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এতে অনেক দেশে মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত কমে না এলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
