বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বিশ্ব মা দিবসে ‘শেকড় যশোর’র আয়োজনে মায়েদের সমাবেশ ও রত্নগর্ভা সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে শহরের আরবপুরে বাঁচতে শেখা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পাঁচ রত্নগর্ভা মাকে সম্মাননা ক্রেস্ট, উত্তরীয় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা দেয়া হয়।

রত্নগর্ভা মা সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন, শাহানারা বেগম, সামসুন্ নাহার বেগম, জুলেখা খাতুন, আফরোজা হক এবং মাহমুদা বেগম। এছাড়া নারী অগ্রযাত্রার প্রথম সারির যোদ্ধা ড. আঞ্জেলা গোমেজকে ‘সর্বজয়া জননী’ খেতাবে ভূষিত করে তাকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

শেকড় যশোরের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব মা দিবস উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব রওশন আরা রাশু এবং ফাতেমা নূর অর্পির যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন যশোর ইনস্টিটিউটের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ. জেড. এম. সালেক (স্বপন), সহ সভাপতি কবি ড. শাহনাজ পারভীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু, দৈনিক বাংলার ভোরের উপদেষ্টা সম্পাদক হারুন অর রশীদ, সংগঠনের উপদেষ্টা ও যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সদস্য আনিসুজ্জামান পিন্টু, বিবর্তন যশোরের সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল, আয়কর উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি হাবীবা শেফা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ রত্নগর্ভা মায়েদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

আয়োজক সংগঠন ‘শেকড় যশোর’র পক্ষে রওশন আরা রাসু দৈনিক ‘বাংলার ভোর’কে বলেন, বাঁচতে শেখা ও স্বপ্নতরীর সহযোগিতায় ‘মাগো তোর আঁচলের ছাঁয়ায় যত শান্তি খুঁজে পাই, সারা পৃথিবী খুঁজেও তত শান্তি কোথাও নাই’ প্রতিপাদ্যে আমাদের এবারের আয়োজন।

শেকড় যশোর মনে করে, গৃহ হচ্ছে একটা পরিবারের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর মা হলেন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা। সন্তানের লালন পালনে বাবা মায়ের দায়িত্ব দ্বৈত হলেও মায়ের ভূমিকা অনন্য এবং বিশেষভাবে স্বীকৃত। একজন মা একাধারে গর্ভধারণী, স্তন্যদায়িনী, সেবিকা, ধাত্রী এবং অভিভাবক। সন্তানকে সফল, যুগোপযোগী এবং মানবিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম কারিগর হলেন মা। এজন্য মায়েদের অনেক ত্যাগ স্বীকারও করতে হয়।

মায়েদের জন্য ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মা দিবসে ‘শেকড় যশোর’ এই আয়োজন করে থাকে।

রওশন আরা রাসু আরো বলেন, পাঁচ রত্নগর্ভা মায়ের পাশাপাশি হারুন অর রশীদের প্রস্তাবনায় আমাদের আয়োজনে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশেষ সম্মাননা ‘সর্বজয়া জননী’। আমাদের বিশ্বাস এই আয়োজন দেখে অন্য মায়েরাও তাদের সন্তানদের শিক্ষিত, সফল এবং মানবিক মানুষ করে তুলতে অনুপ্রেরণা পাবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে নাটক পরিবেশিত হয়। পরে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এ সময় রত্নগর্ভা মায়েদের জীবনী পাঠ করেন অনুসুয়া ঘোষ, আসমানা রলী ও তাসদিক শোভন।

Share.
Exit mobile version