হিমেল খান
যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মূল বিদ্যুৎ লাইনের মাঝখান থেকে শাখা সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব সংযোগ কতগুলো, কোথায় কোথায় রয়েছে সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে কোন পূনর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। ফলে তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নগরবাসী বলছে এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ কারণে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

যশোর শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। নগরায়নের বিস্তার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছেন, বর্তমানে সরবরাহে কোন সংকট নেই।

শহরের ব্যস্ততম এলাকা মুজিব সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে মূল বিদ্যুৎ লাইনের তারের বাইরের রাবার কেটে শাখা সংযোগ নেয়া হয়েছে। এসব সংযোগের মাধ্যমে দোকানপাট ও ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নিচের দিকে ঝুলে থাকা তারও দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শহরের সার্কিট হাউস এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে যেকোন সময় শর্ট সার্কিট, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া কিংবা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যশোরের সাবেক সভাপতি খাইরুল উমাম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে এভাবে শাখা সংযোগ নেয়া হয়। তবে এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং সঠিক তদারকি না থাকলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সার্ভিস পয়েন্ট বা খুঁটি থেকে সংযোগ নেয়ার কথা থাকলেও মূল লাইনের মাঝখান থেকে সংযোগ নেয়া কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

যশোর সরকারী এমএম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ছোলজার আহমেদ বলেন, এ ধরনের সংযোগের কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় ঝড় বা বাতাসের কারণে এ সব তার ছিঁড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের দাবি, তারা অনুমোদিত মিটার ব্যবহার করে নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছেন। তাদের মতে, শাখা সংযোগে তার কম লাগে, ফলে খরচও অনেক কমে আসে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, অনুমোদিত মিটার থাকলে শাখা সংযোগ সব সময় অবৈধ হিসেবে গণ্য হয় না। তবে এক্ষেত্রে কারিগরি মানদণ্ড ও নিরাপত্তা অনুসরণ না করলে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

যশোর ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম মাহমুদ প্রধান বলেন, মিটার থাকলে সংযোগ ব্যৈ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কিছু এলাকায় অবৈধভাবে লাইন টেনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ফুটপাতের কিছু দোকানগুলোতে এ ধরনের প্রবণতা বেশি। এ জন্য পৌরসভার সাথে সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, শহরে কতগুলো শাখা সংযোগ রয়েছে, তার কোন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা তালিকা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে নেই।

দৃশ্যমান সংযোগ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ চিত্র অনুপস্থিত থাকায় তদারকি ও ঝুঁকি নির্ধারণ কার্যকরভাবে করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এসব সংযোগ চিহ্নিত করে তালিকা প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

Share.
Exit mobile version