বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জনেরও বেশি ছাত্রী আবাসিক হলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এমআর খান মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন সবাই। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আবাসিক হলে ঘটে।

এ বিষয়ে এম আর খান মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক তারিক হাসান বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছি, তাদের অসুস্থতার লক্ষণ প্রায় একই রকম। গত বুধবার রাতে তারা হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা এবং ডাল খেয়েছিলেন। পয়জনিংটি সম্ভবত সেখান থেকে ছড়িয়েছে। সবাই পেটে ব্যথা, বমি এবং লুজ মোশনে আক্রান্ত।

ডায়রিয়াজনিত কারণে অনেকের শরীরে ফ্লুইডের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার কারণে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমাদের স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প উপাদানের মাধ্যমে রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থা একটু জটিল আকার ধারণ করেছে, আমরা তাদেরকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেলে হয়তো এখানে সেবা দেয়া সম্ভব হবে না, উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

এ বিষয়ে যবিপ্রবির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলে রাতের খাবার খান শিক্ষার্থীরা। ভোর ৪টা থেকে তারা অসুস্থ হতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মেডিকেল সেন্টার খুললে বীর প্রতীক তারমন বিবি হল থেকে একের পর এক ছাত্রী গিয়ে চিকিৎসা নিতে থাকেন।

এদিকে দুপুর ১১টা বাজতেই অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান মেডিকেল সেন্টারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এ সময় দায়িত্বে থাকা মেডিকেল ইনচার্জ ডা. মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরত জামানকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বুধবার রাতে অন্তত ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। যারা শুধু ডাইনিংয়ের খাবার খেয়েছে তাদের মধ্য থেকেই ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন। তবে যারা ডাল খাননি তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে।

তবে হলের ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে তারা জানান, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়, ফলে অনেক সময় খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্লেট ও বাটি অনেক সময় অপরিস্কার থাকে। এছাড়া ডাইনিংয়ের আশাপাশে বিড়ালের উপদ্রবও আছে, যা খাবারে মুখ দেয় মাঝে মাঝে।

হলের ছাত্রীদের অসুস্থতার বিষয়ে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের প্রভোস্ট ড. আফরোজা খাতুন বলেন, সহকারী হল প্রভোস্টকে পাঠিয়েছি মেডিক্যালে। শহরে থাকায় যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। অসুস্থ ছাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা চেষ্টা করছি। আর হলের ডাইনিংয়ের যে বিষয়টি, সেটি হল বুধবার দুপুরে আমিও ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছি। রাতের খাবারে আসলে কি হয়েছে এখনো জানতে পারিনি।

Share.
Exit mobile version