বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের সুনাম ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ লাখ খেজুর বিজ বপণের কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’। যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় যশোর সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা এলাকার সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

সোমবার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী, উদ্যামের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাহানি আক্তার রুপা, তুহিন, সদস্য ওয়ালিউজ্জামান, ফয়সাল ইকবাল তমন, সুধাংশ বিস্বাস, রাজন সালেহ, তানিয়া, রবিউল ইসলাম উজ্জলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।

আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপি এ কর্মসূচির আওতায় যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি ও সড়কের দু’পাশে খেজুর বিজ বপণ করা হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেজুর গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের খেজুরের রসের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উদ্যামের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, “আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরগাছ। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুরগাছ এবং প্রায় দেড় হাজার গাছি কমে গেছে। গাছ ও গাছির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস আহরণ কম হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলে খেজুরের রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হারিয়ে যাবে যশোরের যশ খেজুরের রস।”

তিনি আরও বলেন, “যশোরের খেজুরগাছ শুধু একটি গাছ নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্য থেকেই ‘উদ্যাম’-এর উদ্যোগে ২০ লাখ খেজুর বিজ বপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি পতিত জমি ও সড়কের দুপাশে ব্যাপকভাবে খেজুর বিজ বপণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য খেজুরগাছ সংরক্ষণ এবং খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।”

উদ্যামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন বাড়বে এবং যশোরের শতবর্ষের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

Share.
Exit mobile version