বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকা থেকে শাহরিয়ার ইসলাম রনি নামে এক যুবককে অস্ত্র ও ককটেলসহ আটক করেছে র‌্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা। বুধবার দুপুর ১টার দিকে বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক রনি ওই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, রনির বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রাখা হয়েছে এবং সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় রনিকে আটক করা হয়। পরে তার ঘর তল্লাশি করে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি ককটেল ও ইয়াবা সেবনের সমঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আস্ত্র আইনের মামলায় জেল হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, রনিকে আটকের ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এই দিন দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি, এলাকায় মাদক কারবারি সিণ্ডিকেটের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানববন্ধন করা এবং প্রশাসনের সমালোচনা করায় রনিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। স্থানীয় শহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, সুজন হোসেন ও মো. ঝন্টু মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রনিকে ফাঁসিয়েছে এমন অভিযোগ করেন মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আটক রনির পিতা মনিরুল ইসলাম, মা সালেহা পারভীন, টিবি ক্লিনিক মোড় এলাকার মো. শিপন, লিটন হোসেন প্রমুখ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকা, রেলগেট, শংকরপুর, টালিখোলা, কলাবাগানপাড়া, ঘোপ বেলতলা, উপশহর ও পালবাড়ি মোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই হামলা, ছিনতাই, চুরি ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে টিবি ক্লিনিক মোড় এলাকায় আব্দুল হকের ছেলে সোলাইমান হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সে সময়ও ওই এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। এলাকার মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান গ্রুপিংয়ের কারণে সোলাইমান নিহত হয়।

Share.
Exit mobile version