বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকারিভাবে ১৬৫ মেট্রিক টন লবণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ লবণ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হবে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখা এবং সাঠিকভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা সদরে ৭৫ হাজার এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা করে সরকারি ভর্তুকি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার জানান, ঈদের পরপরই কোরবানির চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে এতিমখানা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সংগৃহীত চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় ইমাম ও কসাইদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানি ও চামড়া সংরক্ষণে গুণগত মান বজায় থাকে।

জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলায় ৩০টি এবং সদর উপজেলায় ১৬০টি মাদ্রাসায় লবণ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো সব উপজেলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, তথ্য যাচাই শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলার ৮ উপজেলায় ১৬৫ মেট্রিক টন লবণ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪ টন, বাঘারপাড়ায় ১৪ টন, চৌগাছায় ১৪ টন, শার্শায় ১৪ টন, কেশবপুরে ১৯ টন, মনিরামপুরে ২০ টন, অভয়নগরে ২৫ টন এবং ঝিকরগাছায় ১৬ টন লবণ বরাদ্দ রয়েছে। এসব লবণ সরবরাহ করবে দুটি প্রতিষ্ঠান মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ প্রা. লি. এবং রাজাপুর সল্ট রিফাইনারি লি.।

এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রশাসন। তাদের মতে, সঠিকভাবে লবণ সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার গুণগত মান বাড়বে এবং কোরবানির মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

তবে এ নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে। রাজারহাট চামড়া মোকামের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাদ্রাসার মাধ্যমে লবণ সরবরাহ করলে অনেক সময় চামড়া সংরক্ষণে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, গত বছর মাদ্রাসা থেকে আসা অনেক চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় নষ্ট হয়েছিল, এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।
ব্যবসায়ী নাসির আহমেদ শেফার্ড জানান, অনেক মাদ্রাসায় চামড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকায় সঠিকভাবে লবণ ব্যবহার করা হয় না, ফলে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের মতে, এবারের উদ্যোগে একদিকে যেমন মাদ্রাসাগুলোতে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, একদিকে বেশি দামে চামড়া কিনতে হবে অন্যদিকে সেই চামড়া কেনার পর আবার লবণ ব্যবহার করতে হবে।

সব মিলিয়ে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখলেও এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের সঠিক প্রশিক্ষণ, তদারকি এবং সমন্বয়ের ওপর।

Share.
Exit mobile version