বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এই র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালির শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যশোরের সিভিল সার্জন ড. মাসুদ রানা। এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

র‌্যালি শেষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এবং তা প্রতিরোধে নাগরিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজকের এই সচেতনতামূলক র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মূলত আমাদের চলমান সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নিজে যশোরে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে সচেতন করে আসছি। কীভাবে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে এবং ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তা জানানো হয়েছে। তবে এখন থেকে সচেতনতার পাশাপাশি কঠোর অবস্থান নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবং এডিস মশার লার্ভা জমার পরিবেশ তৈরিতে যদি কেউ বিন্দুমাত্র অবহেলা বা গাফিলতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর অভিযান চালানো হবে।

আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মানুষের সুস্বাস্থ্য এবং জীবন রক্ষার তাগিদেই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

জেলায় ডেঙ্গুর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ইতিমধ্যে যশোরে ৭ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গুর এই বিস্তার রোধে শহর থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যশোর জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সর্বস্তরে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান একযোগে চালানো হবে। কোনো এলাকাকেই এই অভিযানের বাইরে রাখা হবে না।

বক্তব্যের শেষ অংশে জেলা প্রশাসক এডিস মশার বংশবৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক কারণ ও ডেঙ্গু ছড়ানোর বিভিন্ন উৎস অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ঘরের কোণে, ফুলের টবে, ছাদবাগানে কিংবা ডাবের খোসায় যেন কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে।

জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশা ডিম পাড়ে এই বিষয়টি মাথায় রেখে সবাইকে নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের এই মহৎ উদ্যোগে সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

Share.
Exit mobile version