দুই মামলায় আটক নেই
বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা উপজেলার সলুয়া বাজারে মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা ও হামলকারী গণপিটুনিতে নিহতের নেপথ্যে রয়েছে বিক্রিত জমি ফেরত সংক্রান্ত মামলার বিরোধের জের।
একই গ্রামে দুই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত দুজনের পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। কেউ আটক হয়নি।
নিহত রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার সকালে সদর উপজেলার জগহাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় একই পাড়ার কয়েকশ গজ দূরে রফিকুল ইসলাম ও আবদুল আলিম পলাশের বাড়ির অবস্থান। দুই বাড়ির সামনে প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজনের ভিড়। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। তুচ্ছ ঘটনায় একই গ্রামে দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকাবাসীও শোকার্ত।
নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবদুল আলিম পলাশের চার শতক জমি প্রথমে কিনেছিলেন রফিকুল ইসলাম। দ্বিতীয়বার কেনেন আসাদুল নামে এক ব্যক্তি।
কেনা জমি রফিকুল নামজারি করে নেন আগেই। ফলে একই জমি পরে কেনায় নামজারি করতে পারেননি আসাদুল। এ জন্য অন্য জায়গা থেকে আসাদুলকে জমি দিতে বাধ্য হন পলাশ।
রফিকুলের কেনা জমি ফিরে পেতে আদালতে হকসেবা মামলা করেন আবদুল আলিম পলাশের মা বরিছন বেগম ও বোন পাপিয়া খাতুন। এই জমি নিয়ে তাদের ভিতর দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দের জেরে পলাশ ক্ষিপ্ত হয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রফিকুলকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় স্থানীয় জনগণের হাতে স্বশস্ত্র অবস্থায় ধরা পড়েন পলাশ। অস্ত্র উঁচিয়ে জনগণকে ভয় দেখানোর সময় গণপিটুনিতে নিহত হন আবদুল আলিম পলাশ। একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ঝরে যায় দুটি প্রাণ।
রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিল্পী খাতুনের দাবি, তারা ন্যায্য দাম পরিশোধ করে পলাশের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন। তাদের নামজারিও সম্পন্ন। কিন্তু পলাশ সেই জমি আসাদুল নামে আরেকজনের কাছে বিক্রি করেছে। এলাকার কিছু লোকের ইন্ধনে পলাশের মা ও বোন ওই জমি ফিরে পেতে আদালতে হকসেবা মামলা করেছে। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে রফিকুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি তাদের।
আবদুল আলিম পলাশের বোন পাপিয়া খাতুন বলেন, দালালের খপ্পরে ফেলে কম দামে জমি লিখে নিয়েছিলেন রফিকুল। এ নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। জমির বিরোধ ছিল রফিকুলের সঙ্গে। তাছাড়া বাবার মৃত্যুর পর থেকে পলাশ মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে ভুল বুঝিয়ে কম টাকায় জমি রেজিস্ট্রি করে নেয় রফিকুল। এ ঘটনার জেরে খুন করেছে।
কিন্তু একজন ব্যক্তি দশজন মিলে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
সলুয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় একই গ্রামে দুটি প্রাণ ঝরে গেল। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কারো জীবনে যেন এমন দিন না আসে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক মামলা রেকর্ড হয়েছে। হত্যা মামলায় আবদুল আলিম পলাশকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটি মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি। কেউ আটক নেই।
