বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন রফিকুল ইসলাম (৪৫) যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে। অন্যজন আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন মুদি দোকানদার।
পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে রফিকুলের স্বজনদের মারপিটে নিহত হন পলাশ। মঙ্গলবার বিকেলে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানিয়েছেন, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রফিকুল ইসলাম বাইসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে দোকানে যাচ্ছিলেন।
এ সময় চৌগাছা থানাধীন শলুয়া কলেজের সামনে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে আব্দুল আলিম পলাশ (৩৪) নামে এক ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। হামলার পর ঘটনাস্থলে রফিকুল ইসলাম লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা নেয়ার পথে সন্ধ্যায় নড়াইলে তিনি মারা যান। পরে স্বজনরা তাকে যশোর এনে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে রাখেন।
এদিকে, রফিকুলের ওপর হামলার ঘটনায় তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশ গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনেন। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পলাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
