বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরের আরবপুর এলাকার এক বাড়িতে ল্যাব্রাডর জাতের বিদেশি একটি কুকুর একসঙ্গে ১৪ টি বাচ্চা দিয়েছে। গত সোমবার ভোরে বাচ্চাগুলোর জন্ম হয়। সবগুলো বাচ্চা সুস্থ আছে। মায়ের দুধের পাশাপাশি বাচ্চাগুলোকে গরুর দুধ ফিডারে করে খাওয়ানো হচ্ছে। আরবপুর এলাকার জিকেএম লুৎফর রহিম (লুল্টু) নামে এক ব্যক্তি এই কুকুর প্রতিপালন করেন।
লুৎফর রহিম প্রাচীন জিনিসপত্রের সংগ্রাহক। ‘লুল্টুর সংগ্রহশালা’ নামের তার একটি ব্যক্তিগত জাদুঘর আছে। বাচ্চাগুলো জন্ম হওয়ার পর লুৎফরের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে যান। তার পোষা কুকুরটি একসঙ্গে ১৪ টি বাচ্চা প্রসব করেছে জেনে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
লুৎফর রহিম বলেন, ‘কালো রঙ্গের ল্যাব্রাডর জাতের এই কুকুরটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মত। তিন মাস বয়সে আমি কুকুরটিকে এনেছিলাম। দুই বছর দুই মাস লালন পালন করার পর একসঙ্গে ১৪টি বাচ্চা দিল।
আদর করে আমি কুকুরটির নাম দিয়েছিলাম ‘রিও’। প্রতিদিন রিওকে মোটরসাইকেলে সামনে বসিয়ে শহর ঘুরিয়ে আনতে হয়। একদিন না ঘোরালে রিও এর মন খারাপ হয়। খুবই বন্ধুবৎসল আমার রিও। পরিবার নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে তিনি কক্সবাজার ভ্রমণে যান। এ সময়ে গৃহকর্মী লাভলী খাতুন কুকুরের সেবা যত্ন করতেন।
সোমবার ভোরের দিকে কুকুরটি প্রথমে দুইটা কিছুক্ষণ পর আর দুইটা এভাবে পরপর ১৪টি বাচ্চা জন্ম দেয়। গৃহকর্মী লাভলীর কাছে খবরটি শুনেই ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। ১৪ টি বাচ্চার মধ্যে ১০টি কালো ও চারটির রঙ সাদা। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় মায়ের দুধে বাচ্চাগুলোর পেট ভরছে না। যে কারণে ফিডার কেনা হয়েছে। গরুর দুধ গরম করে ফিডারে করে বাচ্চাদের খাওয়ানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এই কুকুরটি লুৎফর তার এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। সেই থেকে কুকুরটি পরিবারের সদস্যের মতো। খুব যত্ন ভালোবাসায় কুকুরটি প্রতিপালন করেন লুৎফর। কুকুরটির প্রিয় খাবার মুরগির মাংস ও দই মাখানো ভাত। এক কেজি ওজনের একটি মুরগি এই কুকুরের দুই দিনের খাবার। দাম একটু কম হওয়ায় বাজার থেকে মরা মুরগি কিনে নেন তিনি।
এছাড়া বাড়িতে যখন আত্মীয়-স্বজন আসে তখন দই কেনা হয়। ওই দই এ পরিবারের অন্য সদস্যদের মত রিও’রও দাবি থাকে। তাই দই দিয়ে ভাত মাখিয়ে রিওকে খাওয়ানো হয়। দই মাখানো ভাত রিওর খুব প্রিয়- বললেন লুৎফর রহমান।
ইন্টারনেট থেকে জানা গেছে, ল্যাব্রাডর জাতের কুকুর মূলত কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড থেকে উদ্ভূত। যেখানে এটি সেন্ট জনস ওয়াটার ডগ নামে পরিচিত ছিল। জেলেদের সাহায্যে এই কুকুর ইংল্যান্ডে যায়। সেখানে এটি একটি উন্নত প্রজাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তাই এই কুকুরের মূল উৎপত্তি কানাডা হলেও যুক্তরাজ্যে বিকশিত হয়েছে। পরে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
জনপ্রিয়তা পাওয়ার মূল কারণ হলো- ল্যাব্রাডর জাতের কুকুর খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, বুদ্ধিমান, উদ্যমী এবং বিশ্বস্ত হয়। যা তাদের চমৎকার পারিবারিক পোষ্য করে তোলে। ঘন, জলরোধী লোম, উচ্চ শক্তির মাত্রা এবং প্রশিক্ষণযোগ্যতা আছে। তবে নিয়মিত ব্যায়াম ও যত্নের প্রয়োজন হয়। এরা খাবারের প্রতি লোভী হওয়ায় স্থুলতার ঝুঁকিতে থাকে।
