বাংলার ভোর প্রতিবেদক
‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার সকালে জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে কালেক্টরেট ভবন চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকারের সভাপতিত্বে এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তর যশোরের উপমহাপরিদর্শক আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার শিশুশ্রম নিরসনে আইনি কাঠামোর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিশুশ্রম যেন না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। শুধু আইন করলেই হবে না, শিশুশ্রমের সাথে জড়িত বাচ্চাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে, তাদের পরিবারের কী ধরনের সেবা বা পুনর্বাসন দরকার তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি এ বিষয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার কাজের উদাহরণ টেনে বলেন, যশোরে ‘ঠাকুর ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন শিশুশ্রম রোধে এভাবে পরিবারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে।
যশোরের স্থানীয় চিত্র তুলে ধরে সুজন সরকার আরও বলেন, গতবারের একটি জরিপ বা নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে ৯৩টি ক্যাটাগরিতে শিশুশ্রমের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিলো। যা উদ্বেগজনক। মূলত পৃথিবীর সব দেশেই কোনো না কোনো রূপে শিশুশ্রম ছিলো বা আছে। তবে আমাদের দেশে এর হার কিছুটা বেশি বলেই এই সচেতনতামূলক আলোচনা সভার গুরুত্ব অনেক।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং যশোর তথা দেশজুড়ে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এই শিশুশ্রমকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
