বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
‘১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা কক্সবাজার ভ্রমণে যান। সেখানে একটি হোটেলে অবস্থানের সময় শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হন।’

অন্যদিকে যশোরের একটি স্বনামধন্য কলেজের এক শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও সামাজিকভাবে বিতর্কিত আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীও পরবর্তীতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।’-এমনি তথ্য উঠে এসেছে যশোর এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলে।

এআরটি সেন্টারের কাউন্সিল বলছেন, শিক্ষক, বিভিন্ন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, আবাসিক মাদ্রাসার ছাত্ররা, বিদেশফেরত প্রবাসীরা মরণঘাতী ব্যাধি এইচআইভি (এইডস) আক্রন্ত হচ্ছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের এআরটি সেন্টার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যশোরে নতুন করে ৩৫জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ৩৫ জনের মধ্যে আটজনই বিভিন্ন দেশের প্রবাসফেরত নাগরিক। পাঁচজন যশোরের বিভিন্ন কলেজের পড়ুয়া শিক্ষার্থী, সমকামী দশজন এবং অন্যান্য ছয়জন।

তথ্য সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ জন ও নারী ১৬ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ জনে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩৬ জন এবং নারী ১৪ জন।

যশোর এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সুদেব কুমার বিশ্বাস বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ এখন একটি চলমান প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কখন আক্রান্ত হচ্ছে তা বলা কঠিন। তবে আমাদের কাউন্সিলিংয়ে উঠে এসেছে যে, বিদেশফেরত ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং সমকামিতার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে তরুণদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়াচ্ছে।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পি বলেন, চলতি বছরের ৫ জুন পর্যন্ত এই মরণব্যাধিতে নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ১২ শতাধিক ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্ত সবার বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তিনি আরো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে সাধারণ মানুষের আক্রান্তের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন কাউন্সেলিং না করলে এ মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

যশোরের অতিরিক্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাকিব রাসেল বলেন, মূলত অনিয়ন্ত্রিত ও অনিরাপদ যৌনাচারের কারণেই এই সংক্রমণ বাড়ছে। এর পেছনে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় সরাসরি দায়ি। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আমরা জানতে পারছি যে ছাত্রদের মধ্যে এর হার সবচেয়ে বেশি।

Share.
Exit mobile version