বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরের শার্শায় সরকারি জমি ও জনসাধারনের চলাচলের পথ দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম জানান, শার্শা থানার ভবেড়বেড় মৌজায় ২৮২ নং দাগের ৪১ শতক জমি সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জনসাধারনের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কিন্তু স্থানীয় মৃত কালু শেখের ছেলে মো. মাসুম শেখ ওই জমির অংশ বিশেষ অবৈধভাবে দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এতে ওই এলাকার ১০টি পরিবারের প্রায় ৪৫ জন সদস্যের চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা ভূমি অফিস ও বেনাপোল পৌরসভায় লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাননি। নিরুপায় হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা আদালতে ১৪৪ ধারা জারিসহ দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়ায় মাসুম শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। গত ১২ মার্চ তিনি উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরদিন ১৩ মার্চ রাতে মাসুমের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সাইফুল ও তার ভাই-বোনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালী মাসুমের কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। উল্টো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক মামুন তাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে শাসাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জনস্বার্থে সরকারি জমি অবমুক্ত করা এবং ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সাথে সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী সুজায়েত উল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, প্রতিবেশী শাহানারা খাতুন ও মর্জিনা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Share.
Exit mobile version