বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ছামিনা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সুজন (২৬) নিজ শরীরেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ছামিনা আক্তার সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে স্বামী-স্ত্রী একই ইউনিয়নের শেখহাটি তমালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সুজন টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছামিনা ও সুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাইবোন ছিলেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নিহত ছামিনার পিতা শফিকুল ইসলাম জানান, সুজন একজন ইয়াবাসেবী। গতকাল (রোববার) রাত বারটার দিকে ইয়াবা সেবন করে বাসায় আসে। এ নিয়ে ছামিনার সাথে রাতে ঝামেলা হয়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নেশার টাকা চায় সুজন।
নেশার টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুজন ধারালো চাকু দিয়ে ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
