বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সারাদেশের সঙ্গে একযোগে মঙ্গলবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনেও শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। চলতি বছরে এই বোর্ডের আওতায় ২৯৯টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৪১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর এই সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২১ হাজার ২৭৯ জন।

প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১০ হাজার ৩০০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। উপস্থিতির হার সন্তোষজনক হলেও অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে এসেছে সংশ্লিষ্টদের। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক উপস্থিতির চিত্রে খুলনায় ১৮ হাজার ২৫৪ জন,বাগেরহাটে ৯ হাজার ৩৬৬ জন, সাতক্ষীরায় ১১ হাজার ৯২২ জন,কুষ্টিয়ায় ১৬ হাজার ৩৬২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ হাজার ২৮৯ জন, মেহেরপুরে ৪ হাজার ৬৯৮ জন,যশোরে ১৮ হাজার ৫৭১ জন,নড়াইলে ৪ হাজার ৯২১ জন, ঝিনাইদহে ১২ হাজার ৬৮৫ জন এবং মাগুরায় ৬ হাজার ২৩২ জন শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

তবে চলমান তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এতে করে প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে কেন্দ্রের ভেতরে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে-এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

অভিভাবকদের অনেকে বলেন, গরমের মধ্যে যদি বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে সন্তানদের জন্য পরীক্ষা দেয়া কষ্টকর হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, প্রস্তুতি ভালো থাকলেও পরিবেশ অনুকূলে না থাকলে পরীক্ষায় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে যশোরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মৎ আসমা বেগম। তিনি কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে কক্ষভিত্তিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যায়।

তিনি আরও জানান, একাধিক ভিজিল্যান্স টিম নিয়মিতভাবে কেন্দ্র পরিদর্শন করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Share.
Exit mobile version