রামপাল সংবাদদাতা
বাগেরহাটের রামপালের হুড়কার ভূমিদস্যু পার্থর বিরুদ্ধে এক অসহায় ব্যক্তির জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও প্রতিমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী মুরারি মোহন দেবনাথ। দীর্ঘ ১৫ বছরেও সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জমি উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ পাননি।
জমির মালিক মুরারি মোহন জানান, বৈধ সম্পত্তি উদ্ধারসহ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে। তিনি রামপাল উপজেলাধীন হুড়কা মৌজায় মোট ৮ টি খতিয়ান থেকে সর্বমোট ৯.৬০ একর জমি কেনেন। যার মধ্যে আনুমানিক আড়াই বিঘা সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করছেন।
বাকি সম্পত্তি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের হিন্দু শাখার নেতা পরিচয় দানকারি পার্থ প্রতিম বিশ্বাস প্রায় ১৫ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এমনকি কোনো প্রকার হারির (লিজ) টাকাও পরিশোধ করেননি। এমনকি বাদীর ফসলী জমিতে অবৈধ মিনি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে ক্ষতি করাসহ জমির শ্রেণী পরিবর্তন করেছে। এতে মুরারি মোহনের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে নির্বাচনের আগে রামপাল সদর জামায়াতের সেক্রেটারি শেরওয়ান শেখ শালিস করে কিছু জমি পার্থকে ছেড়ে দিতে বললে কোন কাজ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে ওই জমি যাতে তার দখলে থাকে সেজন্য সে একটি ইসলামপন্থী দলের হিন্দু শাখায় যোগদান করে পার্থ।
পরবর্তীতে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সুপারিশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যলায় ক্রয়কৃত সম্পত্তি উদ্ধার ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মুরারী মহন দেবনাথ। প্রথম শুনানিতে অভিযুক্ত পার্থ হাজির হয়ে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক সপ্তাহের সময় নিলেও পরবর্তীতে জমি ছাড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এমন কি ওই জমিতে কেউ গেলে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পার্থ প্রতিম বিশ্বাস জানান, মুরারি মোহন সম্পত্তি পাবেন, কিন্তু যতটুকু দাবি করছেন ততটা পাবেন না। তবে যতটুকু পাবেন সেটুকুও কেনো দিচ্ছে না ? জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
