বাগআঁচড়া সংবাদদাতা
যশোরের শার্শায় চাঁদার দাবিতে শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।
রোববার সকালে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার দিন শরিফুল প্রতিদিনের ন্যায় রাজমিস্ত্রীর কাজে যাওয়ার সময় আতিকুর, রশিদ ও মুকুল লোকজন নিয়ে তাকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে এনে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাকে বৈদ্যতিক খুঁটির সাথে বেঁধে হাতুড়ি ও বাঁশের লাটি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত শরীফুলের পিতা ছাবেদ আলী বলেন, ২০ লাখ টাকার দাবিতে তার ছেলেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে আতিকুর, মুকুল ও তার সহযোগিরা।

এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, মারপিটের ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী শরিফুলের আপন চাচা শুকুর আলী রুপা পাচারের কারবার করতেন, শরিফুল ছিলেন শুকুর আলীর কর্মচারী। হঠাৎ চাচা শুকুর আলীর ৯ লাখ টাকার রুপা খোয়া গেলে তিনি শরিফুলের উপরে দোষ চাপান।

পরে শরিফুল চাচা শুকুর আলীকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়। কিছু দিনপর জানাজানি হয় শরিফুল না রুপা আত্মসাৎ করেন একই এলাকার আতিকুর নামে এক যুবক। এরপর আতিকুর শরিফুলকে ৬ লাখ টাকা দেবে মর্মে ১ লাখ টাকা নগদ ও ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকটি নগদায়ন না হওয়ায় শরিফুল ও আতিকুরের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় শরিফুল, আতিকুরের কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা আদায় করে। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

Share.
Exit mobile version