কাজী নূর
টানা এই শীতে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তার উপর খোলা মাঠে তীব্র ঠাণ্ডা ও কুয়াশার প্রকোপ। এ পরিস্থিতিতে মাঠ থেকে সবজি ওঠানো শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর। এতে করে বাজারে সবজির সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর সরবরাহ কম থাকার সুযোগে কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারের সবজি বিক্রেতা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি আরো জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আড়তে ডাক উঠলে বেশি দাম দিয়েই মাল কিনতে হচ্ছে। তার উপর লেবার, খাজনা, দোকান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে।
জসিম উদ্দিনের কথার সত্যতা খুঁজতে শুক্রবার বড়বাজারের কালীবাড়ি রোড ও নিচের বাজার এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কয়েকটি সবজির দাম ৫ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ফারুক হোসেন নামে অপর এক বিক্রেতা দাবি করেন, যশোরে উৎপাদিত সবজির বৃহৎ একটি অংশ রাজধানী ঢাকায় চলে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারের চেয়ে ঢাকার পার্টি ভালো দাম দেয়। ফলে যশোরের বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ফুলকপি মানভেদে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বাধাকপি ২০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৫০ টাকা, সবুজ শাক ৪০ টাকা, পেঁয়াজ কালি ৩০ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এসব সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার কাঁচা মরিচ গত সপ্তাহের তুলনায় ৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে কেজি প্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোন কোন বিক্রেতাকে ১০০ টাকা কেজি মরিচের দাম হাঁকতেও শোনা গেছে।
অপরদিকে কুমড়ো মানভেদে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, ধনে পাতা ৫০ টাকা, মেটে আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, কচুরলতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, বিটরুট ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, গাজর ২০ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মটরশুঁটি ৯০ টাকা, কুশি ৩০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা, ডাটা ৪০ টাকা, মিচুরি ৪০ টাকা, কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাউ আকার ভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
জানতে চাইলে যশোর শহরের মাওলানা মোহাম্মদ আলী সড়কের বাসিন্দা টেইলারিং কর্মী হুমায়ুন কবির টিটো বলেন, এ সপ্তাহে বেশ কিছু সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার দু চারটি সবজির দাম কমেছে।
আলু-পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে নতুন আলু কেজি প্রতি ২০ টাকা, পুরনো আলু ১৭ থেকে ২০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ৫০ টাকা, পুরনো পেঁয়াজ ১০০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার কেজি প্রতি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালী ২১০ থেকে ২৬০ টাকা, লেয়ার ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, দেশি ৫৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সাদ্দাম ব্রয়লার হাউজের মালিক সাদ্দাম হোসেন মোল্লা বলেন, এখন বিয়ে, পিকনিকের মৌসুম চলছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় মুরগির সরবরাহ কম। দাম বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ১ কেজি সাইজের রুই কেজি প্রতি ২৫০ টাকা, ২ কেজি সাইজের কাতলা ৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ১৭০ থেকে ২২০ টাকা, বাইন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, মায়া ৩৫০ টাকা, পারশে ৬৫০ টাকা, পুঁটি ৪৫০ টাকা, ভেটকি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, মৃগেল ২২০ টাকা, কাকলে ৭০০ টাকা, টেংরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৪২০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১১০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ টাকা, বাটা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
আলাপকালে মাছ বিক্রেতা শুভ বিশ্বাস বলেন, সরবরাহ কম থাকায় গত কয়েকদিন যাবত বাজারে মাছের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপ কমলে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দাম কমতে পারে বলে জানান বিক্রেতা শুভ।
শহরের লোন অফিস পাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী কাজী সাঈদ হাসান ইমরান বলেন, গত শুক্রবারের তুলনায় আজ সবরকম মাছের দাম একটু বেশি।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ১৯২ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, সরিষার তেল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম ১৭০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আটা কেজি প্রতি ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০০ টাকা, লাল চিনি ১১০ টাকা, ছোলার ডাল ১১০ টাকা, মসুরির ডাল ৯৫ থেকে ১৬০ টাকা, বুটের ডাল ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
গোহাটা রোডের মেসার্স পাল স্টোরের মালিক গোবিন্দ পাল বলেন, মুদিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে ২/৫ টাকা ওঠানামা করে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে কেজি প্রতি বাসমতী চাল ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা, সুপার মিনিকেট ৬১ থেকে ৬৪ টাকা, রড মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, জিরা মিনিকেট ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা, আটাশ ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, সুবললতা ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চাল ব্যবসায়ী অসিত স্টোরের মালিক অসিত সাহা বলেন, চালের বাজার একদম ঠাণ্ডা। বেচাকেনাও তেমন নেই। দাম বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই।
ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম হালি প্রতি ৩৪ টাকা, সাদা ডিম ৩২ টাকা, দেশি ডিম ৭২ টাকা, হাঁসের ডিম ৬৪ টাকা, কোয়েলের ডিম ১০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ডিম বিক্রেতা আনিস এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল্লাহ জানান, বাজারে অনেক রকম দামে ডিম পাবেন। তবে আমরা পাবনা ও স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত ডিম কম লাভে বিক্রি করি। আপনি সাংবাদিক যাচাই করে দেখতে পারেন।
