শরিফুল ইসলাম
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য, সাহসী ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের নাম জিয়াউর রহমান। তিনি শুধু একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত এক জাতীয় নেতা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের রূপকার। প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী এলে কোটি মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতির আবেগ নতুন করে জেগে ওঠে।

আজ এই শোকাবহ দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে। তাঁর জীবন, আদর্শ, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজও প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন এক সাহসী সেনা কর্মকর্তা। চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি বাঙালি জাতিকে নতুন সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি বিশ্বাস করতেন আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। দেশের কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর গৃহীত নানা পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি ছিলেন বাস্তববাদী ও দূরদর্শী। গ্রামবাংলার উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, কৃষি বিপ্লব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তাঁকে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও আত্মমর্যাদার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নতুন পরিচিতি লাভ করে।

শুধু রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক হিসেবেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান আজও স্মরণীয়। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, যা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারায় এক সাহসী নেতৃত্বকে। সেই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর বেদনার দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কিন্তু মৃত্যুর পরও তিনি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যাননি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অবদান আরও বেশি আলোচিত ও মূল্যায়িত হয়েছে।

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছেও তাঁর জীবন সংগ্রাম একটি অনুপ্রেরণার গল্প। সততা, দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় তাঁর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা বারবার অনুভূত হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে শুধু আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানালেই যথেষ্ট নয়, তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেমকে হৃদয়ে ধারণ করাই হওয়া উচিত আমাদের অঙ্গীকার। একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনকে। মহান আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তি দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে। তাঁর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Share.
Exit mobile version