কাজী নূর
“এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে, এই তো নদীর খেলা রে ভাই/এই তো বিধির খেলা/সকাল বেলার আমির রে ভাই ফকির সন্ধ্যাবেলা” জনপ্রিয় এ গানটির মতই চলে আমাদের জীবন। যেমন দেখেন, আজ (শুক্রবার) বাজারে একমাত্র মাছ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১৭০ টাকায় আজকের বাজারে সেটি ১৯০ টাকা কেজি। সোনালী মুরগিও কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৭০ টাকা। সবজির গায়ে আগুন। আবার সবরকম চালের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে কি হল মাছের কূল ঠিক থেকে সবকূল ভেঙে গেল! আমাদের জীবন এমনই ভাই। তাইতো গৌরিপ্রসন্ন এমন জীবনমুখী গান লিখেছিলেন বলে মন্তব্য করছিলেন যশোরের কবি ও গবেষক রবিউল হাসনাত সজল।

যশোর শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারে সরেজমিনে গেলে কবি ও গবেষক রবিউল হাসনাত সজল সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বাংলার ভোর প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৭০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। লক্ষ্য করা গেছে, সবরকম মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০/৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানতে চাইলে মুরগির বাজারের এসআর ব্রয়লার হাউজের মালিক সাগর মোল্লা বলেন, ভাই স্থানীয় পর্যায়ে মুগির উৎপাদন জিরো পার্সেন্ট বলা যেতে পারে। আশপাশের থানা পর্যায় থেকে মুরগি আনতে হচ্ছে। তীব্র শীতে কোন খামারি বাচ্চা ওঠানোর সাহস দেখাতে পারছে না। এ সময় তিনি মুরগির দাম আরো বৃদ্ধি পাবার আশংকা রয়েছে বলেও জানান।

বাজারের চাল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে মিনিকেট ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা, কাজললতা ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮২ টাকা, বাসমতি ৮২ থেকে ৮৪ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
চাল বিক্রেতা মেসার্স লোকনাথ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অজয় কুমার সাউ বলেন, চালের বাজার অনেকটা ধানের দামের সাথে সংশ্লিষ্ট। ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে সবরকম চাল কেজিতে ২/৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ফুলকপি কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ব্রকলি ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৪০ টাকা, শিমের বিচি ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, কুমড়ো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, বিট ৪০ টাকা, পেঁয়াজ কালি ২০ টাকা, পালং শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, মিচুড়ি ৪০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মেটে আলু ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা, মুলো ৫০ টাকা, উচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, মটরসুটি ১০০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পিস হিসেবে লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও শাকের ডাটা আটি হিসেবে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা ফসিয়ার রহমান বলেন, আমার বাড়ি আব্দুলপুরে। কাছেই সবজির মোকাম। মাঠে সবজি যেমন কম তেমনি বাজারেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। বিধায় সবজির দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় আজ বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম দাবি করে ফসিয়ার রহমান বলেন, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাল আসার দরুণ দাম কিছুটা কমেছে। তবে গরমের সিজনের পূর্ব পর্যন্ত সবজির দাম না কমার আশংকা প্রকাশ করেন ফসিয়ার রহমান।

বাজার করতে আসা শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা জ্যেষ্ঠ নাগরিক জোলায়েকত আলী জকু বলেন, সবজির দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০ টাকার ফুলকপি ৫০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে।

আলু পেঁয়াজের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে নতুন আলু কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুরনো আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পাবদা ৪২০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৯০০ টাকা, ফলই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বেলে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পারশে ৫৫০ টাকা, পুঁটি ৩৫০ টাকা, শোল ৫৫০ টাকা, দুই কেজি সাইজের রুই ৩০০ টাকা, আড়াই কেজি সাইজের কাতলা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া তিন পিসে ১ কেজি সাইজের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হয়েছে।

মাছ বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, বাজারে এখন নানা পদের মাছের সমারোহ। সরবরাহ স্বাভাবিক বিধায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজার করতে আসা শহরের হাইকোর্ট মোড় এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আবুল কালাম মুহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, বাজারে হরেক রকম মাছের সরবরাহ। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।

মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা ভোজ্য সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা কেজি ও বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম ১৭০ কেজি বিক্রি হয়েছে। অপরদিকে আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৬০ টাকা, মুসুরের ডাল ৯০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বুটের ডাল ৬০ টাকা, সাদা চিনি ১০০ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম হালি প্রতি ৩৮ টাকা, সাদা ডিম ৩৬ টাকা, সোনালী ৪৪ টাকা, হাঁস ৭০ টাকা, দেশি ৬০ টাকা ও কোয়েল ১২ টাকা বিক্রি হয়েছে।

ডিমের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক কুদ্দুস আলী বলেন, বর্তমানে যে দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে তাতে খামারি নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনের গরম সিজনে ডিমের দাম বৃদ্ধি পাবার আশংকা রয়েছে।

Share.
Exit mobile version