কেশবপুর সংবাদদাতা
কেশবপুর উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। যশোরের কেশবপুর পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী (মাইশা মারজান পূর্ণতার) অকাল মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে গভীর বেদনার পরিবেশ। তার এমন আকস্মিক বিদায় কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পূর্ণতা ছিলো অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সংস্কৃতিমনা একজন শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেয়া পূর্ণতা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে। শুধু লেখাপড়ায় নয়, গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও তর্ক প্রতিযোগিতাতেও ছিল তার অসাধারণ দক্ষতা। যশোর, খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা ও প্রশংসাপত্র।
পূর্ণতার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মা মুরশিদা খাতুন বাগদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দুই সন্তানের মধ্যে পূর্ণতা বড়। তার মৃত্যুতে যেন শূন্য হয়ে গেছে একটি সুখী পরিবার। বাবা-মায়ের বুক খালি করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়া এই মেধাবী কন্যার স্মৃতিতে আজ শুধু কান্না আর নীরবতা।
তার গ্রামের বাড়ি কেশবপুর উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে হলেও বর্তমানে পরিবারসহ কেশবপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকালও পূর্ণতা হাসিখুশিভাবে বিদ্যালয় ও প্রাইভেটে গিয়েছিলেন।
পূর্ণতার ঘরে সাজানো রয়েছে তার অর্জিত অসংখ্য ক্রেস্ট, পুরস্কার, সার্টিফিকেট ও স্মৃতিচিহ্ন। সেগুলোর দিকে তাকালে আজও মনে হয়-একটি স্বপ্নবাজ মেয়ে হয়তো দেশের জন্য বড় কিছু করতে পারত। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন থেমে গেল অকালেই।
