সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডা. এম.আর. খান শিশু হাসপাতালে ছয়টি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।

জানা গেছে, হাসপাতালের ৬টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তবে গত ৮ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি কক্ষে বেলা ১১টায় লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে আগেই চূড়ান্ত করা ৬ জন প্রার্থীকে সিলেকশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়।

৮ মার্চ অনুষ্ঠিত ভাইভা ছিল কেবলমাত্র লোক দেখানো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। সূত্র জানায়, বেসরকারি ডা. এম.আর. খান শিশু হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।

সরেজমিনে জানা যায়, নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার, হাসপাতালের প্রতিনিধি ডা. অসিত কুমার স্বর্ণকার, ডা. আরমান বাসার এবং সেক্রেটারি এম. জামান খান।

নিয়োগ দেয়া পদের মধ্যে রয়েছে- ডাক্তার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অমুসলিম নার্স, প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট, সহকারী ডাক্তার ও নাইট গার্ড। এসব পদের বিপরীতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়োগ বোর্ড বসে। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ডাক্তার পদে ডা. তনিমা রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে মোস্তাফিজুর রহমান, অমুসলিম নার্স পদে স্মৃতি সরকার ও তনু দত্ত, প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট পদে রাফিদ খান, সহকারী ডাক্তার পদে সৈকত মজুমদার ও শামীমা আক্তার শান্তা এবং নাইট গার্ড পদে সজিব বাবুকে নির্বাচন করা হয়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও কল গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে হাসপাতালের সেক্রেটারি এম. জামান খান বলেন, “নিয়োগ বোর্ডে কর্মকর্তারা লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে ভাইভা পরীক্ষা নিয়েছে এটা সত্য।

তিনি আরও বলেন, ডিসি স্যারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল উনি যা ভালো মনে করেছেন সেটাই করেছেন। নিয়োগ বোর্ডের আগেই টাকার বিনিময়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, আজকের নিয়োগ বাতিল। তিনি বলেন, ডিসি স্যার পুনরায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করবেন।

Share.
Exit mobile version